কোনও মহিলাকে বডি শেমিং, শারীরিক গঠন নিয়ে অপমান বা গালিগালাজের অভিযোগ থাকলেই ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ৫০৯ ধারায় ‘শালীনতা লঙ্ঘন’-এর অপরাধ প্রমাণ হয় না। এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ কর্নাটক হাই কোর্টের। আদালত স্পষ্ট করেছে, এই ধারায় অপরাধ গঠনের জন্য নির্দিষ্ট আইনি উপাদান এবং মহিলার শালীনতা অপমানের উদ্দেশ্য থাকা প্রয়োজন।

ঘটনাটি বেঙ্গালুরুর। ২০২৩ সালের অগস্টে এক মহিলা অভিযোগ করেন, দুই মহিলা এবং এক ব্যক্তি তাঁকে ও তাঁর বন্ধুদের বডি শেমিং, বর্ণবিদ্বেষী ও অশ্লীল ভাষায় অপমান করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ IPC-র ৫০৯ ধারায় এফআইআর দায়ের করে। তদন্তের পর চার্জশিটও জমা দেওয়া হয়।

– বিজ্ঞাপন –

মামলাটি কর্নাটক হাই কোর্টে উঠলে বিচারপতি এস আর কৃষ্ণ কুমারের বেঞ্চ দুই মহিলা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি কার্যক্রম খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, অভিযোগ, এফআইআর, চার্জশিট এবং সাক্ষীদের বয়ান খতিয়ে দেখেও IPC-র ৫০৯ ধারায় অপরাধ গঠনের প্রয়োজনীয় উপাদান পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু শারীরিক গঠন নিয়ে অপমান বা বডি শেমিং করা হয়েছে—এমন অভিযোগ থেকেই এই ধারার অপরাধ প্রতিষ্ঠিত হয় না।

এই একই ঘটনায় তৃতীয় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চলা মামলাও ২০২৪ সালের ২৬ জুন হাই কোর্ট খারিজ করেছিল। দুই মহিলা অভিযুক্তের ক্ষেত্রেও অভিযোগ একই হওয়ায় আদালত ‘পারিটি’ বা সমতার নীতি প্রয়োগ করে একই সুবিধা দিয়েছে। আদালতের বক্তব্য, একই পরিস্থিতিতে একই ধরনের অভিযোগের মুখোমুখি ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সাধারণত একই ধরনের আইনি আচরণ করা উচিত।

উল্লেখ্য, মামলাটি ২০২৩ সালের হওয়ায় তৎকালীন IPC-র ৫০৯ ধারাই প্রযোজ্য। ওই ধারায় কোনও মহিলার শালীনতা অপমানের উদ্দেশ্যে কথা, শব্দ, ইঙ্গিত বা কোনও কাজ করা কিংবা তাঁর গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল; সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান ছিল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *