কলকাতা: আগামী ছ’মাসের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) চালুর পরিকল্পনার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সময়ের মধ্যে তিনি ‘লাভ জিহাদ’ ও ‘ল্যান্ড জিহাদ’-এর বিরুদ্ধে কড়া আইন আনার কথাও ঘোষণা করেছেন। রবিবার কলকাতায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি অশোক সিঙ্ঘলের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু বলেন, উত্তরাখণ্ড ও গুজরাটের পথ অনুসরণ করেই বাংলায় UCC কার্যকর করা হবে। তাঁর কথায়, “ছ’মাস সময় দিন।” UCC কার্যকরের পর ‘লাভ জিহাদ’, ‘ল্যান্ড জিহাদ’ এবং ধর্মান্তর রুখতে কঠোর আইন আনার কথাও জানান তিনি।
– বিজ্ঞাপন –
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, তাঁর সরকার সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই কাজ করবে। একই সঙ্গে ভারতীয় সংস্কৃতি, সনাতন ঐতিহ্য, মন্দির, মঠ এবং ঐতিহ্যবাহী স্থানের উপর কোনও আক্রমণ বরদাস্ত করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন। মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং ‘বিভাজনকারী শক্তি’-র বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
UCC নিয়ে ইতিমধ্যেই কমিটি
পশ্চিমবঙ্গে UCC চালুর প্রস্তুতি অবশ্য কয়েক মাস আগেই শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকার UCC-র খসড়া পর্যালোচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছে। প্রস্তাবিত UCC-তে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং দত্তক গ্রহণের মতো দেওয়ানি বিষয়গুলিকে একটি অভিন্ন আইনি কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে UCC-কে বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।
ধর্মীয় পর্যটনে ১,০০০ কোটি
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের প্রস্তাবিত ধর্মীয় পর্যটন সার্কিট নিয়েও পরিকল্পনার কথা জানান। তাঁর দাবি, আগামী দু’বছরের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করা হবে এবং এর জন্য ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রকল্পের বিষয়ে সাধারণ মানুষের পরামর্শ ও সহযোগিতাও চান তিনি।
বিজ্ঞাপন
পাশাপাশি আগামী নভেম্বরে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ২০ হাজার মানুষের হনুমান চালিসা পাঠ এবং ২৯ ডিসেম্বর ১০ লক্ষ মানুষের গীতা পাঠের কর্মসূচির কথা জানান শুভেন্দু। আগামী বছরের গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের সমালোচনাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সেই সরকারের পতনের একাধিক কারণ থাকলেও হিন্দুদের অনুভূতি, সংগঠন, দেবদেবী ও ঐতিহ্য নিয়ে বারবার আঘাতের অভিযোগ তার অন্যতম কারণ ছিল। নিজের ছাত্রজীবনে রাম জন্মভূমি আন্দোলনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত থাকার কথাও স্মরণ করেন তিনি।
