ফ্রান্স: ৩ (কিলিয়ান এমবাপে ২, ব্র্যাডলি বারকোলা)   সুইডেন: ০

খবর অনলাইন ডেস্ক: নিউ জার্সিতে তীব্র গরমের মধ্যেও দাপুটে ফুটবল খেলল ফ্রান্স। সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করল দিদিয়ের দেশঁর দল। এই জয়ে নকআউট পর্বে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোল করার নতুন রেকর্ডও গড়লেন ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে।

– বিজ্ঞাপন –

বিশ্বকাপের নকআউটে সর্বকালের সর্বাধিক গোলদাতা এমবাপে

ম্যাচে দুটি গোল করেন এমবাপে। এর ফলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১০, যা এই পর্যায়ে সর্বকালের সর্বাধিক। একই সঙ্গে চলতি বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও তিনি আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে উঠে এসেছেন। দু’জনেরই গোলসংখ্যা এখন ছয়।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফ্রান্স

নিউ জার্সির প্রচণ্ড গরমে দুই দলকেই খেলতে হলেও শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় ফ্রান্স। ম্যাচের ২০তম মিনিটে এমবাপের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।

এর কিছুক্ষণ পর জুল কুন্দের নিচু ক্রস থেকে প্রায় ফাঁকা পোস্ট সামনে পেয়েও এমবাপের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

এর পর কয়েক মিনিটের মধ্যেই মাইকেল অলিসে বক্সের ভেতর থেকে দুর্দান্ত সিজর কিকে বল পোস্টে মারেন। ফিরতি বলে ওসমান দেম্বেলের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

বিজ্ঞাপন

এমবাপের গোলে বিরতিতে ব্যবধান ১-০

একাধিক দুর্দান্ত সেভ করে সুইডেনকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন গোলরক্ষক ইয়াকব উইডেল জেটারস্ট্রম। তবে প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে তাঁকে পরাস্ত করেন এমবাপে।

ফরাসি দলের হতাশা যখন বাড়ছিল, ঠিক তখনই ওসমান দেম্বেলের নিখুঁত থ্রু পাস ধরে বক্সে ঢোকেন এমবাপে। ভিক্টর ইয়োকেরেসকে স্টেপওভারে ভুল পথে পাঠিয়ে ঠান্ডা মাথায় দূরের কোণে বল জড়িয়ে দেন তিনি। সেই গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ফ্রান্স।

সুযোগ নষ্ট সুইডেনের, ফ্রান্স ২-০ 

বিরতির পরপরই সমতায় ফেরার দুর্দান্ত সুযোগ পেয়েছিল সুইডেন। গোলের সামনে প্রায় ১২ গজ দূর থেকে বল পেলেও এলিয়ট স্ট্রাউড শট উড়িয়ে দেন।

সেই সুযোগ নষ্টের মূল্য চুকাতে বেশি সময় লাগেনি। দ্বিতীয়ার্ধের অষ্টম মিনিটে মাইকেল অলিসের চমৎকার পাস ধরে ব্র্যাডলি বারকোলা ডান দিক থেকে এগিয়ে এসে কাছের পোস্ট দিয়ে জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন।

৭৪ মিনিটে এমবাপের আর একটি গোল

এর পরও আক্রমণের ধার কমায়নি ফ্রান্স। ডান দিক থেকে ওসমান দেম্বেলের পরিচিত বাঁকানো শট অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন ইয়াকব উইডেল জেটারস্ট্রম। পরে একের বিরুদ্ধে এক অবস্থায় মাইকেল অলিসেকেও গোল করতে দেননি তিনি।

তবে ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। আবার মাইকেল অলিসের দারুণ পাস ধরে বক্সে ঢুকে বাঁকানো শটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। সেই গোলেই ৩-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় ফ্রান্সের।

শেষ ১৬-য় পারাগুয়ের মুখোমুখি ফ্রান্স

ম্যাচের শেষদিকে সুইডেনের ভিক্টর ইয়োকেরেস একটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেলেও ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁ দুর্দান্ত সেভ করে তাঁকে হতাশ করেন। ফলে কোনো সান্ত্বনার গোলও পায়নি সুইডেন।

এই জয়ের ফলে শেষ ষোলোয় উঠেছে ফ্রান্স। আগামী শনিবার, ৪ জুলাই, ফিলাডেলফিয়ায় তাদের প্রতিপক্ষ হবে পারাগুয়ে। সোমবার জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে পারাগুয়ে। এখন সেই দলের বিরুদ্ধেই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে এমবাপে-দেম্বেলেরা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *