ভারত: ২৪৯-৫ (সঞ্জু স্যামসন ৮২, তিলক বর্মা ৪৪ নট আউট, রস্টন চেজ ৩-২৪, শমর স্প্রিঙ্গার ২-৬৪)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২৫২-৪ (১৮.৩ ওভার) (সাই হোপ ১০২ নট আউট, শেরফেন রাদারফোর্ড ৮৪, ময়াঙ্ক যাদব ৩-৩৬)

– বিজ্ঞাপন –

(৯ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেটে জয়)   

খবর অনলাইন ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৫০ রানের কাছাকাছি স্কোর গড়েও হার এড়াতে পারল না ভারত। পাঁচ ম্যাচের ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতকে ছয় উইকেটে হারাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রাঁচির ঝাড়খণ্ড রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ভারত ৫ উইকেটে ২৪৯ রান তুলেছিল। জবাবে অধিনায়ক শাই হোপের অপরাজিত ১০২ এবং শেরফেন রাদারফোর্ডের ৮৪ রানের দাপটে ১৮.৩ ওভারেই ৪ উইকেটে ২৫২ রান তুলে জয় ছিনিয়ে নেয় ক্যারিবীয় দল।

এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতা ফিরল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে হোপ ৪৫ বলে ১০২ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও ন’টি ছক্কা। অন্য দিকে, রাদারফোর্ড মাত্র ৩৭ বলে ৮৪ রান করেন। সাতটি চার ও সাতটি ছক্কায় সাজানো ছিল তাঁর বিধ্বংসী ইনিংস।

এই জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া করার নজির। পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া করে জয়। ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়নে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার ৪ উইকেটে ২৫৯ রান তুলে জয়ের নজির এখনও সবার উপরে।

বিজ্ঞাপন

ভারতের ইনিংসে ঝড় সঞ্জুর

টসের পর প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল ভারত। অভিষেক শর্মা ২০ রান করে ফিরে গেলেও পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে ১ উইকেটে ৭৯ রান তুলে নেয় দল।

ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন সঞ্জু স্যামসন। মাত্র ২১ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করে তিনি শেষপর্যন্ত ৪১ বলে ৮২ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল একাধিক চার ও ছক্কার মার। দ্বিতীয় উইকেটে ঈশান কিষাণের সঙ্গে ৯৭ রানের জুটি গড়েন সঞ্জু। ঈশান ২২ বলে ৪৩ রান করেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের রস্টন চেজ বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। তিনি ঈশান কিষাণ ও শিবম দুবেকে আউট করার পর সঞ্জু স্যামসনকেও ফিরিয়ে দেন। চেজের বোলিং পরিসংখ্যান ২৪ রানে ৩ উইকেট।

এর পর অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার ও তিলক বর্মা ভারতের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান। পঞ্চম উইকেটে দু’জনে ৮৩ রান যোগ করেন। শ্রেয়স মাত্র ১৮ বলে ৪০ রান করেন। তিলক ১৮ বলে অপরাজিত ৪৪ রান করে ভারতের স্কোর ৫ উইকেটে ২৪৯-এ পৌঁছে দেন।

দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন হোপ-রাদারফোর্ডের

২৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে চাপে পড়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের পেসার মায়াঙ্ক যাদব প্রথম ওভারেই পরপর দুই বলে কামিল পুরান ও শিমরন হেটমায়ারকে আউট করেন। পরে রভম্যান পাওয়েলের উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫৮ রানে ৩ উইকেটে নামিয়ে দেন তিনি।

তবে সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন হোপ ও রাদারফোর্ড। চতুর্থ উইকেটে মাত্র ১২০ রানের ঝোড়ো জুটি গড়ে ভারতীয় বোলারদের উপর পাল্টা আক্রমণ চালান তাঁরা। রাদারফোর্ড ৩৭ বলে ৮৪ রান করে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিলেন। শেষপর্যন্ত কুলদীপ যাদব তাঁকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন। তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ১৫তম ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৮।

কিন্তু তাতেও ভারতের স্বস্তি ফেরেনি। হোপের সঙ্গে যোগ দেন রোমারিও শেফার্ড। মাত্র ১৩ বলে অপরাজিত ৩৪ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি। অন্য প্রান্তে অবিচল থেকে হোপ ৪৫ বলেই শতরান পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত নয় বল বাকি থাকতেই রেকর্ড রান তাড়া করে ম্যাচ জিতে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ভারতের হয়ে ময়াঙ্ক যাদব ৩৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। তবে বাকি বোলাররা ক্যারিবীয় ব্যাটারদের আক্রমণ সামলাতে ব্যর্থ হন। বড় রান করেও তাই শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতকে।

রবিবার ইন্দোরে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আবার মুখোমুখি হবে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে দুই দলই এবার জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *