উৎসবের মরশুম শুরু হতেই চিনির বাজারে চাপ বাড়ছে। গত কয়েক সপ্তাহে দেশে চিনির দাম দ্রুত বেড়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০ জুলাই প্রতি কেজি চিনির গড় দাম ছিল ৪৮.১৮ টাকা, যা ২০ অগস্ট বেড়ে হয়েছে ৫৫.৭০ টাকা। উৎসবের আগে চাহিদা বৃদ্ধি, উৎপাদন কমে যাওয়া, আবহাওয়াজনিত ক্ষতি এবং মজুতদারির অভিযোগ—সব মিলিয়েই বাজারে এই চাপ তৈরি হয়েছে।
এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ ক্রেতাদের কেনাকাটাতেও। বিভিন্ন অনলাইন কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এবং খুচরো বিপণিতে একসঙ্গে বেশি পরিমাণ চিনি কেনার ক্ষেত্রে সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। ফলে উৎসবের আগে মিষ্টি বা পিঠেপুলি তৈরির জন্য বেশি চিনি কিনতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন অনেকেই।
– বিজ্ঞাপন –
কেন চিনির বাজারে এই পরিস্থিতি?
কেন্দ্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রত্যাশার তুলনায় দেশীয় উৎপাদন কম হওয়া, উৎসবের আগে চাহিদা বেড়ে যাওয়া, আখের উপর আবহাওয়ার প্রভাব এবং কিছু ক্ষেত্রে মজুতদারি ও জল্পনা—সব মিলিয়ে বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
তবে দেশের চিনি শিল্পের সংগঠনগুলির একাংশের বক্তব্য, দেশে প্রকৃত অর্থে চিনির ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং নতুন সরবরাহ বাজারে এলে দামও কিছুটা কমতে পারে।
বাজারে জোগান বাড়াতে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের
দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্র ১০ লক্ষ মেট্রিক টন অপরিশোধিত চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি দিয়েছে। এই অনুমতি ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। প্রায় এক দশক পর এই প্রথম ভারত এত বড় পরিমাণে অপরিশোধিত চিনি আমদানির অনুমতি দিল।
পরবর্তীতে আমদানি করা চিনির পরিশোধন ও বাজারজাত করার সময়সীমার নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, দেশে অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎসবের মরশুমে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়াও মজুতদারি ঠেকাতে চিনি ব্যবসায়ীদের উপর স্টক সীমা চাপানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের যৌথ দল বিভিন্ন চিনি কারখানায় মজুত যাচাইও করছে।
ফলে এখন নজর একটাই—সরকারের আমদানি ও মজুত নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপে বাজারে সরবরাহ কত দ্রুত বাড়ে এবং উৎসবের আগে চিনির দামে সাধারণ মানুষ কতটা স্বস্তি পান।
