খবর অনলাইন ডেস্ক: প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বলিউড। ‘কোহরাম’ ছবিতে তাঁর সহ-অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন আবেগঘন বার্তায় স্মরণ করলেন প্রয়াত অভিনেতাকে। ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র মঞ্চে নানা পাটেকরের সঙ্গে কাটানো স্মরণীয় মুহূর্তের কথাও তুলে ধরলেন তিনি। অমিতাভের কথায়, নানা চলে গেলেও থেকে যাবে তাঁর কণ্ঠস্বর, মানুষের জন্য তাঁর কাজ এবং তাঁর শিক্ষা।
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ভোরে গোয়ার বাড়িতে ৭৫ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন নানা পাটেকর। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
– বিজ্ঞাপন –
নানার চলে যাওয়া এক বিরাট ধাক্কা: অমিতাভ
নানার প্রয়াণে একটি ভিডিও বার্তায় অমিতাভ বচ্চন বলেন, “এক অনন্য শিল্পী, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী আমাদের মধ্যে আর নেই। এই ঘটনা শুধু ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের জন্য নয়, ব্যক্তিগতভাবে যাঁরা তাঁর সংস্পর্শে এসেছেন, তাঁদের কাছেও এক বিরাট ধাক্কা।”
প্রয়াত অভিনেতার স্পষ্টবাদিতা, সরলতা এবং সত্যি কথা বলার সাহসের প্রশংসা করে অমিতাভ বলেন, এই গুণগুলিই নানা পাটেকরকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল।
তিনি আরও বলেন, “কিছু মানুষ আমাদের জীবন থেকে চলে যান, কিন্তু তাঁদের কণ্ঠস্বর, পরোপকার এবং শিক্ষা থেকে যায়। নানা ছিলেন তেমনই একজন মানুষ।”
নানার অভিনয়জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অমিতাভ বলেন, তিনি নিজের শিল্পকে পূর্ণ সততা দিয়ে বাঁচিয়েছেন এবং দর্শকদের জন্য তা উৎসর্গ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র মঞ্চে নানাকে স্মরণ
‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র মঞ্চে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন নানা পাটেকর। সেই সন্ধ্যার কথা স্মরণ করে অমিতাভ জানান, নানার কথা তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। অনুষ্ঠানে জেতা অর্থও সমাজসেবার কাজে দান করেছিলেন নানা।
অমিতাভ বলেন, “কেবিসির মঞ্চে অতিথি হিসেবে আপনার উপস্থিতির সেই সন্ধ্যা চিরকাল মনে থাকবে। আপনার কথায় আমরা শুধু প্রভাবিতই হইনি, আপনার জেতা অর্থ দান করার মধ্য দিয়ে সমাজের প্রতি আপনার দায়বদ্ধতারও পরিচয় পেয়েছি। কেবিসি পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে আমাদের সকলের শ্রদ্ধার্ঘ্য।”

নানা পাটেকরকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবীস। ছবি ANI X থেকে নেওয়া।
গ্রামজীবনের শান্তিই ছিল নানার পছন্দ
‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র সেই পর্বে নিজের গ্রামজীবনের প্রতি ভালোবাসার কথাও জানিয়েছিলেন নানা পাটেকর। তিনি বলেছিলেন, “আমি এই চলচ্চিত্র জগতের মানুষ নই। আমি গ্রামের মানুষ। এখানে কাজ করি, তারপর আবার গ্রামে ফিরে যাই। আমি গ্রামের মানুষ, সেখানেই থাকতে চাই। ওখানেই আমার ভালো লাগে।”
অনুষ্ঠানের সেটে অমিতাভের সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে নানা জানিয়েছিলেন, ঘরে ঢোকার সময় তিনি অমিতাভকে প্রশ্ন করেছিলেন, কেন তিনি এত কাজ করেন। অমিতাভকে এক সপ্তাহের জন্য গ্রামে গিয়ে থাকার পরামর্শও দিয়েছিলেন তিনি। নানার কথায়, “এক সপ্তাহ গ্রামে গিয়ে থাকুন। সেখানে কী অসাধারণ শান্তি!”
অমিতাভ তাঁকে জানিয়েছিলেন, তিনি দিনে ১২ ঘণ্টা কাজ করেন। প্রবীণ অভিনেতার সেই পরিশ্রমের কথা শুনে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন নানা।
পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য
বৃহস্পতিবার রাতে মহারাষ্ট্রের পুণে জেলার দোনজে গ্রামের একটি খামারবাড়িতে নানা পাটেকরের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রের বহু মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন। পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। সেই সময় উপস্থিত মানুষজন ‘নানা অমর রহে’ স্লোগান দেন। তাঁর ছেলে মালহার পাটেকর চিতায় মুখাগ্নি করেন।
নানার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মতে, তিনি আগে থেকেই নিজের খামারবাড়িতে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। গোয়া থেকে তাঁর মরদেহ পুণেতে পৌঁছোনোর পর সন্ধ্যায় বিমানবন্দরে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবীসও তাঁকে শ্রদ্ধা জানান।
‘ক্রান্তিবীর’ এবং ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’-এর মতো ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন নানা পাটেকর। তাঁর শক্তিশালী অভিনয়, স্পষ্টবাদিতা এবং সমাজসেবামূলক কাজ তাঁকে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব করে তুলেছিল। তাঁর প্রয়াণে সেই দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পাশাপাশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক পরিচিত অধ্যায়েরও অবসান হল।
