দিল্লি, মহারাষ্ট্রের পর এবার প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডেও হু হু করে ছড়াচ্ছে H1N1 বা সোয়াইন ফ্লু। রাঁচির RIMS হাসপাতালে পরীক্ষা করা ১১টি নমুনার মধ্যে ৮টিতেই ভাইরাস মিলেছে।

করোনার আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই এবার নতুন করে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে H1N1 ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস। যা সাধারণভাবে সোয়াইন ফ্লু নামে পরিচিত। দিল্লি, কর্নাটক, কেরল, মহারাষ্ট্রের পর এবার ঝাড়খণ্ডেও থাবা বসিয়েছে এই ভাইরাস, তাই সামান্য জ্বর-সর্দিকেও এবার আর হালকাভাবে নিতে বারণ করছেন চিকিৎসকরা।

ঝাড়খণ্ড স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, রাঁচির রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (RIMS)-এ সম্প্রতি ১১টি রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তার মধ্যে ৮টিতেই H1N1 পজিটিভ ধরা পড়ে। এরপরই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। রাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের অধিকর্তা শশী প্রকাশ ঝা জানিয়েছেন, এখনই আতঙ্কের কারণ নেই, কিন্তু আগাম সতর্কতা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালগুলিতে কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে?

স্বাস্থ্য দফতরের তরফে রাজ্যের সমস্ত জেলার সিভিল সার্জন ও মেডিক্যাল কলেজগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে –

১. প্রতিটি জেলা হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে অন্তত ১০ বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখতে হবে। ২. হাসপাতালে পর্যাপ্ত PPE কিট, থ্রি-লেয়ার মাস্ক, ওষুধ, অক্সিজেন ও ভেন্টিলেটর মজুত রাখতে হবে। ৩. OPD-তে জ্বর, সর্দি, কাশি বা শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসা রোগীদের জন্য বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিং চালু করতে হবে। ৪. বেসরকারি হাসপাতাল বা ল্যাবে সন্দেহভাজন রোগী পাওয়া গেলেই IDSP-কে জানাতে হবে।

কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে? লক্ষণ কী?

চিকিৎসকরা বলছেন, H1N1-এর লক্ষণ সাধারণ ফ্লুর মতোই – হঠাৎ জ্বর, কাঁপুনি, শুকনো কাশি, গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা, শরীরে ব্যথা ও প্রচণ্ড দুর্বলতা।

তবে বয়স্ক ব্যক্তি, ৫ বছরের কম বয়সী শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং যাদের আগে থেকেই ডায়াবেটিস, হাঁপানির মতো রোগ আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাস প্রাণঘাতী হতে পারে।

বাঁচতে কী করবেন?

১. জ্বর, কাশি হলে নিজে থেকে ওষুধ খাবেন না, দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। ২. হাঁচি-কাশির সময় রুমাল বা কনুই দিয়ে মুখ ঢাকুন। ৩. ভিড় এড়িয়ে চলুন, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং মাস্ক ব্যবহার করুন। ৪. বাড়িতে ও অফিসে জানালা খোলা রাখুন, যাতে হাওয়া চলাচল করে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *