নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক ঘিরে শনিবার দিল্লিতে ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা দেখা গেল। যন্তর মন্তরে পৌঁছনোর আগেই আটক করা হল একাধিক বিরোধী নেতা ও আন্দোলনকারীকে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তা জোরদার করে প্রতিবাদ কর্মসূচি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে আপত্তি জানাতে যন্তর মন্তরে জমায়েতের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। কিন্তু কর্মসূচির অনুমতি না মেলায় সকাল থেকেই বিক্ষোভকারীদের আটক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং তাঁর সহযোগী সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে দিল্লি বিমানবন্দরে আটক করা হয়। ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি-সহ অন্য কয়েক জনও পুলিশের হেফাজতে গিয়েছেন।
– বিজ্ঞাপন –
বাড়ির সামনের অবস্থানেও ছাড় নয়
যন্তর মন্তরে যেতে না পেরে সাউথ অ্যাভিনিউয়ে নিজের বাড়ির কাছে অবস্থান শুরু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, সাকেত গোখলে, শামিরুল ইসলাম ও প্রতিমা মণ্ডল-সহ দলের নেতারা। পুলিশ তাঁদের অবস্থান তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। জমায়েতের উপর জারি থাকা বিধিনিষেধের কথা জানিয়ে সরে যেতে বলা হলেও তাঁরা ধর্না চালিয়ে যান। এরপরই মমতা-সহ তৃণমূলের নেতাদের আটক করা হয়।
‘প্রতিবাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে’, অভিযোগ তৃণমূলের
আটক হওয়ার পর প্রতিমা মণ্ডল ভিডিয়ো বার্তায় অভিযোগ করেন, তাঁদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা জানানো হয়নি। পুলিশ তাঁদের সঙ্গে বন্দিদের মতো আচরণ করছে বলেও দাবি করেন তিনি। বাংলার মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে মমতার আন্দোলনকে সমর্থন জানান তৃণমূল সাংসদ।
বিজ্ঞাপন
দলের নেতা কুণাল ঘোষের বক্তব্য, বিরোধীদের প্রতিবাদ করতে না দেওয়ার চেষ্টা চলছে। মমতাকে আটক করার ঘটনাকে তিনি গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ বলে নিন্দা করেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূলের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে কংগ্রেসও। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ যাঁদের আটক করা হয়েছে, তাঁদের পাশে রয়েছে তাঁর দল।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত এ দিন নতুন মাত্রা পেল। দিল্লিতে একের পর এক নেতাকে আটক করার ঘটনায় প্রতিবাদ কর্মসূচির পাশাপাশি রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে।
