নয়াদিল্লি: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবার সরাসরি প্রভাব ফেলছে খাদ্যপণ্যের দামে। তীব্র গরম, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং অতিবৃষ্টির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।
বার্সেলোনার সুপারকম্পিউটার সেন্টারের গবেষক ম্যাক্সমিলান কোৎজের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় বিশ্বের ১৮টি দেশের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যপণ্যের বাজার বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চরম আবহাওয়ার কারণে খাদ্যদ্রব্যের দামের ওঠানামা কীভাবে হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা চালানো হয়।
– বিজ্ঞাপন –
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ২০২২ সালের নভেম্বরে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া ও অ্যারিজোনায় তীব্র তাপপ্রবাহ এবং জলসংকটের কারণে সবজির দাম প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়ে যায়। একইভাবে, ২০২৪ সালের আগস্টে দক্ষিণ কোরিয়ায় তাপপ্রবাহের জেরে বাঁধাকপির দাম আগের বছরের তুলনায় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
ইউরোপেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট। ২০২২-২৩ সালে ইতালি ও স্পেনে দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে ২০২৪ সালে অলিভ অয়েলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, গত এক দশকে মেক্সিকোতে বারবার খরা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ফল ও সবজির দাম গড়ে ২০ শতাংশ বেড়েছে।
জাপানেও তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে খাদ্যবাজারে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দেশটিতে তীব্র গরমের কারণে চালের দাম ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সবচেয়ে নাটকীয় প্রভাব দেখা গিয়েছে কোকোর বাজারে। বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ কোকো উৎপাদিত হয় আফ্রিকার ঘানা ও আইভরি কোস্টে। ২০২৪ সালে এই দুই দেশে চরম তাপপ্রবাহের কারণে বিশ্ববাজারে কোকোর দাম প্রায় ২৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ভবিষ্যতে খাদ্য মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের উপর। কারণ, খাদ্যের দাম বাড়লে সাধারণত পরিবারগুলি প্রথমেই ফল, সবজি এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের খরচ কমিয়ে দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
