শিশু খেতে চাইছে না? তাই ফোনে কার্টুন বা ভিডিও চালিয়ে খাওয়াচ্ছেন? সাময়িক ভাবে এতে কাজ হলেও, দীর্ঘ দিন এই অভ্যাস চালিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। পর্দার উজ্জ্বল ছবি, শব্দ ও দ্রুত বদলে যাওয়া দৃশ্য শিশুর মনোযোগ খাবার থেকে সরিয়ে দিতে পারে। ফলে সে কখন খাচ্ছে, কতটা খাচ্ছে কিংবা পেট ভরে গিয়েছে কি না— সেই শরীরের স্বাভাবিক সংকেতগুলিতে মনোযোগ কম দিতে পারে। গবেষণাতেও দেখা গিয়েছে, পর্দার সামনে খেলে শিশুর খাওয়ার সময় দীর্ঘ হতে পারে এবং তৃপ্তির অনুভূতি উপেক্ষিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
তাই শিশু খাওয়ার সময় ফোন বা টিভি বন্ধ রাখাই ভাল। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্সও খাবারের সময়কে ‘মিডিয়া-ফ্রি’ রাখার পরামর্শ দেয়।
– বিজ্ঞাপন –
কী ভাবে ফোন ছাড়াই খাওয়ার অভ্যাস করাবেন?
১. নির্দিষ্ট সময়ে খাবার দিন
মধ্যাহ্নভোজ, রাতের খাবার এবং প্রয়োজনীয় জলখাবারের জন্য মোটামুটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন। নিয়মিত খাবারের সময় তৈরি হলে শিশুর দৈনন্দিন রুটিন গড়ে ওঠে এবং খাবারের প্রতি মনোযোগ বাড়ানো সহজ হয়।
২. একসঙ্গে বসে খাবার খান
সম্ভব হলে পরিবারের সঙ্গে টেবিলে বসিয়ে খাওয়ান। খেতে খেতে গল্প করুন, শিশুর দিনের কথা শুনুন। পরিবারের অন্য সদস্যরাও যেন সেই সময় ফোন না ঘাঁটেন। বড়রা নিজেরা যে আচরণ করেন, শিশুরাও তা অনুসরণ করতে শেখে।
৩. ধীরে ধীরে ফোনের অভ্যাস কমান
হঠাৎ ফোন বন্ধ করে দিলে শিশু বিরক্ত বা জেদ করতে পারে। তাই ধীরে ধীরে অভ্যাস বদলানোই ভাল। প্রথমে খাবারের একটি সময় ফোনমুক্ত রাখুন। পরে সেই সময় বাড়িয়ে দিন। বকা বা শাস্তি না দিয়ে শান্ত ভাবে বোঝান যে খাওয়ার সময়টা শুধু খাবার ও পরিবারের জন্য।
‘মাইন্ডফুল ইটিং’-এর অভ্যাস
খাওয়ার সময় শিশুকে খাবারের স্বাদ, গন্ধ ও গঠন সম্পর্কে সচেতন হতে উৎসাহিত করুন। ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন। এতে খাবারের প্রতি মনোযোগ বাড়তে পারে এবং পর্দার বিভ্রান্তি কমানো সহজ হয়।
বিজ্ঞাপন
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বাড়ির বড়দেরও একই নিয়ম মানতে হবে। বাবা-মা যদি খাওয়ার সময় ফোনে ব্যস্ত থাকেন, অথচ শিশুকে ফোন বন্ধ করতে বলেন, তা হলে নিয়ম মানানো কঠিন হবে। তাই পরিবারের সবার জন্যই খাবারের সময়কে স্ক্রিনমুক্ত রাখাই সবচেয়ে কার্যকর অভ্যাস।
