ছবির উৎস, Getty Images
-
- Author, মিশেল রবার্টস
- Role, ডিজিটাল হেলথ এডিটর
-
পড়ার সময়: ৪ মিনিট
সু-স্বাস্থ্য বজায় রাখতে অনেকেই অনেক ধরনের ব্যায়াম করে থাকেন। কেউ বেছে নেন হাঁটা ও দৌড়ানো, অনেকে সাঁতার কাটেন, আবার কেউবা যান জিমে।
তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জিম, শরীরচর্চার কোনো ক্লাস কিংবা দৌড়ানো- যেকোনো ধরনের ব্যায়াম থেকে সর্বোচ্চ ফলাফল পাওয়া যায় তখনি যখন তা প্রাকৃতিক জৈবিক ঘড়ির (বডিক্লক) সাথে মিল রেখে করা হয়।
তাদের মতে, যারা ভোরে ঘুম থেকে উঠেন (লার্ক বা ভোরের পাখি), তাদের সর্বোচ্চ শরীরচর্চা থেকে উপকার পেতে সকালে ব্যায়াম করা উচিত।
আর যারা খুব বেশি রাত জাগেন (নাইট আউল বা রাতের প্যাঁচা), তাদের ব্যায়াম করা উচিত সন্ধ্যার দিকে।
ওপেন হার্ট জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, শরীরচর্চার মাঝে এক প্রকার সিনক্রোনাইজেশন বা সামঞ্জ্যসতা রাখা গেলে তা হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে, বিশেষ করে যারা ইতোমধ্যেই উচ্চ হৃদ্ররোগের ঝুঁকিতে আছেন তাদের জন্য তা আরো বেশি উপকারী।
যে স্বেচ্ছাসেবকরা এটি চেষ্টা করেছিলেন, তাদের ঘুম ভালো হয়েছিল, রক্তচাপ কমেছিল এবং সামগ্রিকভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাস্থ্যকর ছিল।
ছবির উৎস, Getty Images
একই তালে
ওপেন হার্ট জার্নালের এই গবেষণায় অংশ নেন পাকিস্তানে চল্লিশ ও পঞ্চাশের কোঠায় থাকা প্রায় ১৩৫ জন ব্যক্তি। তাদের কেউই শারীরিকভাবে খুব বেশি একটা ফিট ছিলেন না এবং উচ্চ রক্তচাপ বা অতিরিক্ত ওজন থাকার মতো একটি হলেও সমস্যা তাদের মধ্যে ছিল।
তাদের বলা হয়েছিল, পরামর্শ অনুযায়ী দিনে ৪০ মিনিটের জন্য ট্রেডমিলে ব্রিস্কওয়াক বা জোরে হাঁটতে এবং সপ্তাহে পাঁচবার করে তিন মাসের জন্য এটি করতে।
গবেষণায় অংশগ্রহীতার ৭০ জন ছিলেন ‘মর্নিং লার্ক’ বা যারা ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন। আর ৬৪ জন ছিলেন ‘নাইট আউল’ বা রাতে জেগে থাকেন ও বেলা করে ঘুম থেকে ওঠেন।
তাদের মধ্যে কেউ ব্যায়াম করেছেন তাদের শরীরের জৈবিক ঘড়ি, অনুযায়ী আবার অনেকে করেছেন এর উল্টোটা। অর্থাৎ, সকাল বা সন্ধ্যায় সজাগ থাকার স্বাভাবিক প্রবণতা মেনে চলেছে একদল, আর বিপরিতটা করেছে অন্যরা।
দুটি দলের সদস্যদের মধ্যেই শারীরিক উন্নতি দেখা গেছে।
তবে যারা তাদের শরীরের ক্রোনোটাইপ বা দেহঘড়ি অনুযায়ী শরীরচর্চা করেছেন, তারা বেশি উপকার পেয়েছেন। এর বিশেষ প্রভাব পরেছে তাদের উচ্চরক্তচাপ, অ্যারোবিক ক্যাপাসিটি কিংবা শরীরের নমনীয়তা, মেটাবোলিক মার্কার ও ঘুমের মান উন্নয়নে।
আপনার আভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ি দিনজুড়ে ঘুমের প্যাটার্ন ঠিক রাখতে এবং হরমোন ব্যালেন্সেও প্রভাব রাখে। এটি শরীরচর্চার ফলাফলেও প্রভাব রাখতে পারে বলে ব্যাখ্যা করেন বিশেষজ্ঞরা।
ছবির উৎস, Getty Images
শরীরের কথা শুনুন
‘ওয়ান সাইজ ফিটস অল’ বা সবার জন্য একইরকম ব্যায়াম সময়সূচি নির্ধারণ করা আদর্শিক নয়।
শরীরের স্বাভাবিক সময়সূচি এবং সামাজিক সময়সূচির (সোশ্যাল জেটল্যাগ) মধ্যে অমিল থাকলে তা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশেষ করে যারা রাতের সময়টাতে বেশি সক্রিয় থাকেন তাদের মধ্যে এই ঝুঁকি বেশি। যার ফলে তাদের জোর করে ভোরবেলায় ব্যায়াম করার অভ্যাস তৈরি করা উচিত নয়।
ব্রিটিশ কার্ডিওভাসকুলার সোসাইটির সদস্য ড. রাজিভ শঙ্করাণারায়ণ বলেন, এই গবেষণা বডি ক্লক অনুযায়ী ব্যায়ামের গুরুত্ব তুলে ধরেছে, তবে বিষয়টি প্রমাণ করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন।
অন্যদিকে, ব্যায়ামের সময় গুরুত্বপূর্ণ হলেও নিয়মিত পর্যাপ্ত ব্যায়াম করাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ক্যাম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. নিনা জেকরজেক।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সংস্থা ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য যে নির্দেশনা দিয়েছে তা হলো-
সপ্তাহে অন্তত দুইদিন শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম বা স্ট্রেন্থ ট্রেনিং (যেমন ইয়োগা, পিলাটিস, ভারোত্তলোন) করা।
সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম (যেমন ব্রিস্কওয়াক) বা ৭৫ মিনিট উচ্চমাত্রার ব্যায়াম (যেমন দৌড়) চর্চা করা।
সপ্তাহজুড়ে সামঞ্জস্য রেখে ব্যায়াম করা বা প্রতিদিনই ব্যায়াম করা।
দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস কমিয়ে আনা।
এছাড়া, বিভিন্ন ধরনের ব্যায়ামের সমন্বয় করে শরীরচর্চা করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায় বলেই গবেষণায় দেখা গেছে।
