মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। উভয় পক্ষের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচি।

শুক্রবার (১২ জুন) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচি ১২ জুন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে পারে, যা সংঘাতের অবসান ঘটাতে সহায়ক হবে।

তিনি জানান, প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর কোনো পক্ষই সামরিক হামলায় যাবে না এবং এরপর ৬০ দিনের একটি দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা শুরু হবে, যেখানে একটি চূড়ান্ত চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করা হবে। এটি একটি কঠিন আলোচনা পর্যায়, যেখানে পারমাণবিক ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো কেন্দ্রে রয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, সম্ভাব্য চুক্তিতে শুধু পারমাণবিক ইস্যুই নয়, বরং লেবাননসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যুদ্ধবিরতির বিষয় এবং ইসরায়েলকে অধিকৃত অঞ্চল থেকে সরে যাওয়ার শর্তও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পরিস্থিতিতে আর ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা হবে, যেখানে ইরান সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখবে।

এদিকে, ওয়াশিংটনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা চুক্তি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তার মতে, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা বর্তমানে ৮০–৮৫ শতাংশে পৌঁছেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিকে বৃহত্তর একটি চুক্তির অংশ হিসেবে গ্রহণ করার আগ্রহ দেখিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *