ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যে অবশেষে কাটল যুদ্ধের মেঘ? আমেরিকা-ইরানের (Iran-US Peace Deal) মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত চুক্তি চূড়ান্ত। জানা গিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়ে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে জানা গিয়েছে, চুক্তির নথিতে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump), ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার খবরে সিলমোহর দিয়েছেন ট্রাম্পও। হরমুজ়ও খুলে যাবে বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু, এখনও হরমুজ় (Strait of Hormuz) সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হয়নি।

চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য

আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংস্থা সূত্রে খবর, চুক্তি সংক্রান্ত সব কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলেও শুক্রবার একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে শান্তি স্থাপন হতে চলেছে। আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে খবর। এক মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করা হবে। শুক্রবার একটি চুক্তি অনুযায়ী, অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে।জি-৭ সামিটের ফাঁকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর উপস্থিতিতে হরমুজ় নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “চুক্তি সম্পূর্ণ হয়েছে। হরমুজ় প্রণালী ইতিমধ্যেই আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। কিছু মাইন অপসারণের কাজ চলছে। তবে জাহাজ চলাচল শুরু হয়ে গিয়েছে। শুক্রবারের মধ্যে পুরোপুরি খুলে যাবে হরমুজ় প্রণালী।”

ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, নতুন ইরানি নেতৃত্বের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁরা একটি সমঝোতায় পৌঁছতে সক্ষম হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমরা একটি চুক্তি করতে পেরেছি, যা আরও বড় সংঘাতের সম্ভাবনা রুখে দিয়েছে।” ট্রাম্পের দাবি, পরমাণু কর্মসূচি বন্ধের বিষয়ে সম্মত হয়েছে ইরান। এই বিষয়ে কড়া নজরদারি ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানান তিনি। এদিকে, চুক্তির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অনেকটাই কমেছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।

শান্তি কি পুরোপুরি ফিরছে না?

যদিও, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হলেও, শান্তি যে পুরোপুরি ফিরছে তা বলা যায় না। কারণ এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হরমুজ়। দ্রুত হরমুজ় খোলার কথা মাথায় রেখেই এই চুক্তি করা হয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কার্যকলাপ নিয়ে পরে আলোচনা হবে খবর। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান পারমাণিক কার্যকলাপ বন্ধের বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর যৌথভাবে হামলা চালায় ইজ়রায়েল ও আমেরিকা। দুই দেশের হামলায় মৃত্যু হয় তেহরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের। কড়া জবাব দেয় ইরানও। পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাতে শুরু করে তেহরান। এরপর শুরু হয় হরমুজ় অবরোধ। যার বড় প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে। তেলের দাম বেড়েছে। গ্যাস, পেট্রোল-ডিজ়েলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, এবার দুই দেশের শান্তির পথে পা বাড়িয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারকে আরও চাঙ্গা করতে সাহায্য করবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *