স্পেন: ১ কাবো ভার্দে: ১
শ্রয়ণ সেন
– বিজ্ঞাপন –
রবিবার ছিল কুরাসাও। আর আজ সোমবার কাবো ভার্দে।
কুরাসাও কাল জার্মানির কাছে সাত গোল খেলেও তাদের একটা গোল দিয়েছে। কিন্তু আজ কাবো ভার্দের গল্পটা তো আরও রোমাঞ্চকর।
পৃথিবীর মানচিত্রে খুঁজেই পাওয়া যায়না দেশটাকে। জুম করে দেখতে হয় আফ্রিকা মহাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে সাড়ে সাতশো কিলোমিটার পশ্চিমে অতলান্তিক মহাসাগরে অবস্থিত কয়েকটা ফুটকি, থুড়ি কয়েকটা ভলকানিক দ্বীপ নিয়ে তৈরি হওয়া এই দেশকে।
নামেই দশটা দ্বীপের সমাহার। এর মধ্যে ন’টায় মানুষজন থাকে না। একটাই বসবাসের যোগ্য। জনসংখ্যা সাড়ে পাঁচ লক্ষের মতো।
বিজ্ঞাপন

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
তৃতীয় প্রিয় দল স্পেনের সমর্থক হিসেবে চাইছিলাম তারা জিতুক। কিন্তু খেলা যত এগিয়েছে কাবো ভার্দের নাছোড়বান্দা মনোভাব মন কেড়েছে। শেষের দিকে কাবো ভার্দে যে দু’-তিন বার স্পেনের অর্ধে বল নিয়ে এগিয়েছে, মনেপ্রাণে চাইছিলাম গোল করুক। এই রূপকথার একটা মধুরেন সমাপয়েত হোক!
বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামা স্পেন প্রথম ম্যাচেই কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত ফল পায়নি। পুরো ম্যাচে বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বজায় রাখলেও গোলের দেখা পায়নি লুই দে লা ফুয়েন্তের দল। কাবো ভার্দের সংগঠিত রক্ষণ এবং অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজ়িনহার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স স্পেনকে হতাশ করে।
গোলের খোঁজে দ্বিতীয়ার্ধে লামিনে ইয়ামাল ও মিকেল ওয়ারজ়াবালকে নামাতে বাধ্য হন স্পেন কোচ। তবুও কাবো ভার্দের রক্ষণভাগ ভাঙা সম্ভব হয়নি। ম্যাচের পর ফুয়েন্তের দল নির্বাচন ও কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে ফর্মে থাকা নিকো উইলিয়ামসকে শুরু থেকে না খেলানো নিয়ে।
স্পেনকে আটকে দিয়ে গোটা বিশ্বকে নিজেদের দেশকে চিনিয়ে দিলেন সাদা জার্সির প্লেয়াররা। ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু নিছক খেলা নয়, জীবন সংগ্রামের অনন্য গল্প, রূপকথার অনন্য গল্প এটি।
