নয়া দিল্লি: সিগন্যাল ভেঙেছেন বা জ্রেবা ক্রসিং পার করে গাড়ি দাঁড় করাচ্ছেন সিগন্যালে? ভাবছেন সামান্য জরিমানা দিলেই পার পেয়ে যাবেন? এই ধারণা কিন্তু এবার ভাঙতে চলেছে। কারণ ট্রাফিকের নিয়ম বদলে যেতে চলেছে আমূল। এবার ট্রাফিক নিয়ম ভাঙলে, আপনার গাড়ির লাইসেন্স পর্যন্ত বাতিল হয়ে যেতে পারে।
সম্প্রতিই ট্রাফিকের নতুন নিয়ম-কানুন আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রী নিতিন গড়করী। তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও হাইওয়ে মন্ত্রক ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে গ্রেডেড পয়েন্ট সিস্টেম আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে যে ট্রাফিক আইন ভাঙলে লাইসেন্স সাসপেনশন বা ক্যানসেল পর্যন্ত করা হতে পারে। আবার যারা ট্রাফিক আইন মানবেন, ড্রাইভিং রেকর্ড ভালো থাকলে, তারা রিওয়ার্ডও পাবেন।
কীভাবে কাজ করবে প্রস্তাবিত সিস্টেম?
সোশ্যাইটি অব ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফাকচারার্সের ৬৬ তম বার্ষিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গড়করী বলেন যে এমন একটি মেকানিজম নিয়ে কাজ করা হচ্ছে, যেখানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে, তার প্রভাব সরাসরি ড্রাইভিং লাইসেন্সের রেকর্ডে পড়বে।
প্রস্তাবিত কাঠামোয় বলা হয়েছে, প্রতিবার ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে পয়েন্ট কমে যাবে। যখন একটি নির্দিষ্ট সীমা পার করে যাবে, তখন লাইসেন্স হোল্ডার অর্থাৎ যার নামে লাইসেন্স রয়েছে, তার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। প্রতিটি ভুলে পয়েন্ট কাটা হবে বা নেগেটিভ মার্কিং করা হবে। একটা সীমার পর লাইসেন্স সাসপেন্ড, এমনকী ক্যানসেল পর্যন্ত করা হতে পারে।
মিলবে রিওয়ার্ডও-
শুধু নেগেটিভ মার্কিং নয়, পজেটিভ মার্কিং-ও থাকবে। যারা ট্রাফিক আইন মানবেন, তখন চালকদের পজেটিভ মার্কিং দেওয়া হবে। প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে যে ট্রাফিক আইন মানলে, গাড়ি-বাইকের বিমা কোম্পানিগুলির কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হতে পারে।
বাইক ট্যাক্সি চালানোর পক্ষে সওয়াল-
একাধিক রাজ্যে বাইক ট্যাক্সি ব্যান করা হলেও, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাইক ট্যাক্সি চালানোকে সমর্থন করেছেন। গড়করী বলেন, “প্রাইভেট বাইক চালকদের বাইক ট্যাক্সি চালানোর অনুমতি দেওয়া উচিত। এতে প্রায় আট কোটি কর্মসংস্থান হতে পারে। রাজ্য সরকারগুলির এই প্রস্তাব নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা উচিত।”
