আগে যেমন ছিলেন (বাঁদিকে), ভোল বদলের পর (ডানদিকে)Image Credit: TV9 Bangla
আরামবাগ: ‘গোঁফ দিয়ে যায় চেনা’। আর সেই গোঁফ কামিয়ে ফেললে কি চেনা যায় না? এমনই চেষ্টা করেছিলেন। তবে শেষ রক্ষা হল না। গোঁফ কামিয়ে ভোল বদলে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েও পার পেলেন না। গ্রিন সিটি দুর্নীতি মামলায় কেরলম থেকে গ্রেফতার হলেন আরামবাগ পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বপন নন্দী। কেরলম থেকে ‘ছদ্মবেশী’ তৃণমূল নেতা স্বপন নন্দীকে গ্রেফতার করে আনছে আরামবাগ থানার পুলিশ।
স্বপনবাবু বর্তমানে আরামবাগ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। কয়েকদিন আগে পর্যন্ত তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক ছিলেন। ভোটের ফল প্রকাশের পরই আরামবাগ থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। ইতিমধ্যেই গ্রিন সিটি দুর্নীতির অভিযোগে তৎকালীন পৌরসভার অস্থায়ী ইঞ্জিনিয়ার মানস কুন্ডু, ঠিকাদার স্বর্ষাণু ঘোষ ও অস্থায়ী ইলেকট্রিক সুপারভাইজার কৌস্তুভ মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছে আরামবাগ থানার পুলিশ। চুঁচুড়া আদালতে এই তিন জনকে তোলার পর তাঁদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আরামবাগ থানায় জেরা করছেন মামলার তদন্তকারী অফিসার আরামবাগের এসডিপিও সুপ্রভাত চক্রবর্তী।
জানা গিয়েছে, ৭ কোটি ২৪ লক্ষ টাকার গ্রিন সিটি প্রকল্পে পৌরসভার বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয়, রাস্তাঘাটে সৌর লাইট বসানো হয়। উদ্বোধনের ফলক থাকলেও লাইট ও সৌরপ্যানেলগুলি কোথায় গেল? পৌরসভার ৩০টি বিদ্যালয় পৌরসভাকে প্যানেলগুলি খুলে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল। গ্রিন সিটি প্রকল্পে দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
পৌর বোর্ড পরিবর্তনের পর আরামবাগ পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন তৃণমূল নেতা সমীর ভান্ডারী। সমীরবাবুই আরামবাগ থানায় গ্রিন সিটি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা করেছিলেন বিগত তৃণমূল বোর্ডের বিরুদ্ধে। রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকায় সেই মামলার চাপা পড়েছিল। নতুন সরকার আসার পরেই মামলাগুলি নিয়ে নড়ে চড়ে বসে পুলিশ। তৃণমূলের অনেক নেতাই বলছেন, গ্রিন সিটি মামলায় স্বপন নন্দীর সঙ্গে জড়িয়ে যেতে পারেন রাজ্যের প্রাক্তন এক হেভিওয়েট মন্ত্রী।
উল্লেখ্য, আরামবাগ পৌরসভা এলাকায় অবস্থিত ৩৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিশু শিক্ষা কেন্দ্র, ১১টি আপার প্রাইমারি ও হায়ার সেকেন্ডারি বিদ্যালয়ের ছাদে সোলার প্যানেল বসে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৬৪.৪৬ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন। যা এই সমস্ত বিদ্যালয় ছাড়াও আরামবাগ পৌরসভার স্ট্রিট লাইটে ব্যবহার হবে। ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে আরামবাগ পৌরসভা থেকে গ্রিন সিটি প্রকল্পের সোলার বিদ্যুৎ প্যানেলের জন্য ই-টেন্ডার হয়। তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের দিকে কোটি কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠে।
