প্রেক্ষাগৃহে আশানুরূপ ব্যবসা করতে ব্যর্থ হয়েছে রাজকুমার সন্তোষী পরিচালিত ছবি ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’। কেন ফ্লপ করল এই বহুচর্চিত সিনেমা? এবার তা নিয়ে বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া দিলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শাবানা আজমি। তাঁর মতে, পর্দায় সানি দেওলকে একজন মুসলিম চরিত্রে দর্শক হয়তো সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি, আর সেই কারণেই বক্স অফিসে ছবিটির এই হাল।

চলতি বছরের ১৪ আগস্ট মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি এ পর্যন্ত মাত্র ৫৩.৯৬ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। অন্যদিকে, একই দিনে মুক্তিপ্রাপ্ত ইমরান হাশমির ‘আওয়ারাপন ২’ ইতিমধ্যেই ২০০ কোটি টাকার গণ্ডি পার করে ফেলেছে। আমির খান প্রযোজিত এবং সানি দেওল-রাজকুমার সন্তোষী জুটির এই ছবি ঘিরে অনুরাগী ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। উপরন্তু, আট বছর পর এই ছবির মাধ্যমেই বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছেন প্রীতি জিন্টা।

এক সাক্ষাৎকারে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ৭৫ বছর বয়সী অভিনেত্রী শাবানা আজমি বলেন, “আমি সত্যিই ভীষণ অবাক হয়েছি যে ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’ বক্স অফিসে কেন এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়ল। কারণ আমার আশেপাশের বহু মানুষ এসে আমাকে বলেছেন যে তাঁদের ছবিটি খুব ভালো লেগেছে এবং এর বার্তাটি তাঁদের ছুঁয়ে গিয়েছে। বর্তমান সময়ে মানবতার কথা বলা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল মানুষ সিনেমা হলে যাননি, আর যাঁরা গিয়েছেন তাঁদের প্রতিক্রিয়া ছিল বেশ বিভ্রান্তিকর।”

অমিতাভ বচ্চনের প্রসঙ্গ টেনে শাবানা আরও যোগ করেন, “আসল কথা হল, দর্শক বোধহয় সানি দেওলকে মুসলিম চরিত্রে গ্রহণ করতে পারেননি। এর আগে ‘কুলি’ সহ একাধিক ছবিতে অমিতাভ বচ্চন খুব সাবলীলভাবে মুসলিম চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ‘দিওয়ার’ ছবিতে তাঁর ‘৭৮৬’ নম্বর বিল্লাটিও দর্শক সানন্দে মেনে নিয়েছিলেন। তাহলে এখন কী হল? তবে কি এমন এক পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে যেখানে জেনেশুনে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে? আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না।”

শুধু তাই নয়, দর্শকরা সানির চরিত্রটিকে ভুল বুঝেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। শাবানার কথায়, “যাঁরা সিনেমাটি দেখেছেন, তাঁদের অনেকেই মনে করছেন সানি দেওল একজন পাকিস্তানি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। কিন্তু তা একেবারেই সত্য নয়; বিষয়টি তাঁদের মাথায় ঢুকছেই না। এমনকী, পাকিস্তানি অভিনেত্রী বুশরা আহমেদও ছবির ভাষা নিয়ে আপত্তি তুলে বলেছেন যে খলনায়কের পাঞ্জাবি ভাষা সঠিক ছিল না। দুটি ধর্মের মানুষই যদি ছবিটি পছন্দ না করেন, তবে বুঝতে হবে ছবিটি আসলে অত্যন্ত সৎ ও সুন্দর একটি কাজ।”

সামাজিক পরিবেশের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রী বলেন, “সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হল, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত-পাকিস্তানের বিষয় নিয়ে কাজ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। অথচ এই ছবিতে রাজনৈতিকভাবে ভুল কিছু দেখানো হয়নি। এর কোনও খুঁত বের করা অসম্ভব এবং সানি অসাধারণ অভিনয় করেছেন। তাই মানুষের সঙ্গে দেখা হলে তাঁরা যখন ছবিটির এত প্রশংসা করেন, তখন বক্স অফিসের এই ব্যর্থতা আমার কাছে খুবই আশ্চর্যজনক ও পরস্পরবিরোধী মনে হয়।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *