ভোটে ভরাডুবির পর থেকে রাজ্যের দিকে দিকে তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে জনবিক্ষোভ তো চলছেই। আর জনরোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নেতাদের গ্রেপ্তারির সময়ে ডিম ছোড়া, ‘চোর’ স্লোগানের ছবি চোখে পড়ছে অহরহ। এই ক্ষোভ থেকে বাদ যাচ্ছেন না জনপ্রতিনিধিরা। বিধায়ক, সাংসদদের উপরও চলছে ‘ডিম থেরাপি’। সেই তালিকায় নবতম সংযোজন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বুধবার নিজের সংসদীয় এলাকার কালীগঞ্জে কর্মিসভা করতে গিয়ে বড়সড় হামলার শিকার হতে হয় তাঁকে। জানলা দিয়ে ডিম, বেগুন, কাদা ছোড়া হয়। ডিমে ভিজে যায় মহুয়ার শাড়ি। এই পরিস্থিতিতেও তিনি রুখে দাঁড়িয়ে ‘তৃণমূল কংগ্রেস জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন। এসব নিয়ে এবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি পাঠালেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়। তাঁর প্রশ্ন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কি নিজেদের এলাকাতেও নিরাপদে যেতে পারবেন না?

নিজের গড়ে এভাবে ডিম হামলার শিকার শুধু মহুয়াই হলেন, এমনটা নয়। ভোটে হারের পর দিকে দিকে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী, সমর্থকদের উপর লাগাতার হামলার অভিযোগ নিয়ে নিমতা থানায় যেতে গিয়ে একই অভিজ্ঞতার হয়েছিল দমদমের সাংসদ সৌগত রায়েরও। ঘরছাড়া দলীয় কর্মীদের নিরাপত্তা চেয়ে গত মে মাসে নিমতায় থানায় গিয়েছিলেন সাংসদ। থানা থেকে তিনি বেরতেই বাইরে জমায়েত হওয়া লোকজন তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন, চলে ‘চোর’ স্লোগানও। পুলিশের ঘেরাটোপে গাড়িতে উঠে কোনওক্রমে এলাকা ছাড়েন সৌগত রায়। এই ঘটনায় আঙুল উঠেছিল বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন:

এরপর বুধবার কালীগঞ্জে ঘরের মধ্যে কর্মিসভা করেও ডিম-হামলা থেকে রক্ষা মেলেনি। এর নেপথ্যে এলাকারই বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মীর নাম উল্লেখ করে অভিযোগ তুলেছেন মহুয়া মৈত্র। বুধের পর বৃহস্পতিবারও তিনি বিজেপিকে রীতিমতো তুলোধোনা করেছেন। এসবের মাঝে জনপ্রতিনিধিদের এভাবে আক্রান্ত হওয়া নিয়ে মহুয়ার পাশে দাঁড়িয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি পাঠালেন সৌগত রায়। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার তিনি স্পিকারের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তা সম্ভব না হওয়ায় চিঠি লিখেছেন। তাতে প্রশ্ন তুলেছেন, এবার কি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের এলাকায় যেতে পারবেন না?

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *