কলকাতা: বর্ষাকাল মানেই রেলযাত্রীদের হয়রানি। রাতে বৃ্ষ্টি হলেই সকালে ট্রেন বন্ধ, দুপুরে বৃষ্টি হলে বাড়ি ফেরা দায়। রেল লাইনে জল জমলেই থমকে যায় ট্রেন। এবার এই পরিস্থিতি থেকে অব্যাহতি মিলবে বলেই রেল সূত্রে খবর। এবার বর্ষার আগেই মসৃণ রেল পরিষেবা নিশ্চিত করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে পূর্ব রেল।

পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওস্করের নেতৃত্বে এগোচ্ছে সেই কাজ। ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল, সিগন্যালিং এবং অপারেটিং ইউনিটগুলিকে এমনভাবে সমন্বিত করা হচ্ছে যাতে প্রবল বৃষ্টিতেও রেলপথে থাকবে না কোনও বাধা। বৃষ্টি হলেও রেললাইন যাতে পরিষ্কার থাকে, বিদ্যুৎ সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয় সেই দিকগুলি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ট্র্যাক যাতে জলমগ্ন না হয়, তার জন্য ইয়ার্ড এবং রেলওয়ে কলোনিগুলিতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। হাওড়া ডিভিশনে, ট্র্যাকের পাশে এবং ক্রস-ট্র্যাকের বিশাল ১০৬,৮৩৯ মিটার ড্রেনের মধ্যে ১০৪,০৯৭ মিটার ইতিমধ্যেই পরিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি, শিয়ালদহ ডিভিশনেও ইয়ার্ড পরিষ্কারের অভিযান শেষ হয়েছে। লাইনের উপরে বা কাছাকাছি যাতে জল জমতে না পারে, সেজন্য উভয় ডিভিশনের ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলি খুঁজে বের করে ড্রেন আউটলেটগুলি সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে।

রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং

রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং পদ্ধতিতে নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়াচ্ছে রেল। হাওড়া ডিভিশনে ৪৭টি স্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯টি জায়গায় ইতিমধ্যেই টহলদারি শুরু হয়েছে, এবং বাকি ৩৮টি জায়গাকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে, যাতে ভারী বৃষ্টি হলেই অবিলম্বে টহলদারি শুরু করা যায়। শিয়ালদহ ডিভিশনে সমস্ত চিহ্নিত জায়গাগুলিকে নজরে রাখতে মনসুন পেট্রোলিং চার্ট সক্রিয় করা হচ্ছে রেলের তরফে।

লিমিটেড হাইট সাবওয়ে

স্থানীয়ভাবে জলের স্তর পর্যবেক্ষণের জন্য, হাওড়া ডিভিশন ১০টি নতুন লিমিটেড হাইট সাবওয়ে (LHS) তৈরি করেছে রেল এবং প্রতিটিতে ২৪ ঘণ্টার জন্য একজন করে পেট্রোলম্যান নিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া যে সব জায়গায় জল জমে যাওয়ার প্রবণতা বেশি, সেখানে আরও ৫৪টি LHS-এ কর্মী মোতায়েন করা হবে। শিয়ালদহ ডিভিশন যথাযথ জল নিকাশী ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

হাওড়া ডিভিশনের ১৯৫টি স্টেশন এবং ১,৪৯৩টি প্ল্যাটফর্ম শেড পরিদর্শন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, যেখানে যেখানে ত্রুটি ছিল, সেগুলি ঠিক করা হয়েছে। ওভারহেড লাইনে সমস্যা এড়াতে এবং লোকো পাইলটদের জন্য দৃশ্যমানতা পরিষ্কার রাখতে, ট্র্যাক বরাবর ব্যাপক গাছ ছাঁটাই অভিযান চালানো হয়েছে। ফলে, গাছ পড়ে পরিষেবা থমকে যাওয়ার সম্ভাবনা কমেছে।

এছাড়া পাথরের গুঁড়ো, ভারী বোল্ডার প্রচুর পরিমাণে মজুত করা হয়েছে। আকস্মিকভাবে বন্যা পরিস্থিতিত তৈরি হলে তা মোকাবিলা করা যাবে। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, নিখুঁত পরিকল্পনা করে কাজ করছে রেল। ২৪ ঘণ্টা সতর্ক থাকা হচ্ছে যাতে বর্ষাকালে কোনও বাধা বিপত্তি না হয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *