স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বলেছিলেন ‘দিমাগি নকশাল’দের কথা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এহেন মন্তব্যের পর সোশাল মিডিয়ায় তৈরি হয়েছে ‘দিমাগি নকশাল পার্টি’। কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম থেকে শুরু করে একাধিক ব্যক্তিত্ব নিজেদের ‘দিমাগি নকশাল’ বলে পরিচয় দিতে শুরু করেছেন। এহেন পরিস্থিতিতে ‘দিমাগি নকশাল’দের ‘অসুখ’ বলেই অভিহিত করলেন প্রধানমন্ত্রী। সাফ জানালেন, তিনি ওষুধ দিয়েছেন তার পর থেকেই একে একে দিমাগি নকশাল আত্মপ্রকাশ করছে।
শনিবার দিল্লিতে শ্রী রাম কলেজ অফ কমার্সের শতবর্ষ উদযাপনে বক্তৃতা দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁর দাবি, সমাজের ‘অসুখ’ দিমাগি নকশালদের সারাতে হোমিওপ্যাথির টোটকা ব্যবহার করছেন। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “লালকেল্লায় আমার ভাষণ নিশ্চয়ই সকলে শুনেছেন। ওখান থেকে আমি একটা হোমিওপ্যাথি ওষুধ দিয়েছিলাম-দিমাগি নকশাল। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা অনুযায়ী, যখন হোমিওপ্যাথি ওষুধ দেওয়া শুরু হয় তখন প্রাথমিকভাবে অসুখটা বেড়ে যায়। এভাবেই চিকিৎসা চলে।”
আরও পড়ুন:
মোদির মতে, তাঁর দেওয়া ‘ওষুধে’র ফলে বেড়ে উঠেছে দিমাগি নকশালের সংখ্যা। তিনি বলেন, “ঠিক হোমিওপ্যাথির মতোই আমি যখন দিমাগি নকশালের ওষুধ দিয়েছি, একের পর এক সব দিমাগি নকশালদের মুখোশ খুলছে। কারা এই অসুখ ছড়াচ্ছে সমাজে, তাদের চিনতে পারছে মানুষ।” প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর প্রশ্ন উঠছে, যারা নিজেদের দিমাগি নকশাল বলে পরিচয় দিয়েছেন তাঁরা কি সমাজে অসুখের মতো বিপজ্জনক? কারণ সেই তালিকায় একাধিক বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের নামও রয়েছে।
লালকেল্লায় মোদির ভাষণের পরই পি চিদম্বরম স্পষ্ট লিখে দেন, ‘দিমাগি নকশাল হতে পেরে আমি গর্বিত’। এই বার্তার পরেই নেটদুনিয়ায় জোর চর্চা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু জানান, ভারতীয় সংবিধানকে উপেক্ষা করে যারা মাওবাদীদের সমর্থন করে, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পাশে দাঁড়িয়ে যারা ৩৭০ ধারাকে সমর্থন করে, চিকেনস নেক বন্ধ করে যারা উত্তরপূর্ব ভারতকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে চায়-এদেরই দিমাগি নকশাল বলা হয়। কিন্তু অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলে বসেন, দিমাগি নন, চিদম্বরম প্রকৃতই নকশাল। এই বিতর্কের আবহেই মোদি প্রত্যেক দিমাগি নকশালকে তোপ দাগলেন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
