বাজার থেকে দাম দিয়ে ঘি কিনছেন, কিন্তু তা আদৌ খাঁটি কি না—তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। ঘিতে ভেজাল রয়েছে কি না বোঝার জন্য নানা ঘরোয়া পরীক্ষার কথা প্রচলিত। তেমনই কয়েকটি ঘরোয়া উপায় এখানে বলা হল।

ঘরে কী ভাবে প্রাথমিক ভাবে পরীক্ষা করবেন?

  • হাতের তালুতে: সামান্য ঘি হাতের তালুতে নিয়ে শরীরের তাপে গলছে কি না দেখা হয়। দ্রুত গলে গেলে খাঁটি হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়। তবে এটিকে নিশ্চিত পরীক্ষা বলা যায় না।
  • গন্ধ ও স্বাদ: খাঁটি ঘিতে সাধারণত স্বাভাবিক মিষ্টি, বাদামি ও দুধজাত সুবাস থাকে। অস্বাভাবিক রাসায়নিক, পোড়া তেল বা কৃত্রিম গন্ধ থাকলে সতর্ক হওয়া ভালো।
  • জলে পরীক্ষা: এক গ্লাস জলে অল্প ঘি দিয়ে তার আচরণ লক্ষ্য করার পদ্ধতি প্রচলিত। কিন্তু জলেতে ঘি ভাসল বা মিশল—শুধু এই আচরণ দিয়ে ঘির বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা যায় না।
  • গরম প্যানে: অল্প ঘি গরম করলে তার গলন ও গন্ধ লক্ষ্য করা যায়। ঘির স্বাভাবিক সুবাস ও আচরণ থেকে কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে শুধু রং বা গলার গতি দেখে ভেজাল নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
  • আয়োডিন পরীক্ষা: ঘিতে স্টার্চজাত ভেজাল রয়েছে কি না বোঝার জন্য আয়োডিন পরীক্ষার কথা বলা হয়। নীল বা নীলচে-বেগুনি রং দেখা দিলে স্টার্চ থাকার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে এই পরীক্ষাও ঘির সমস্ত ধরনের ভেজাল শনাক্ত করতে পারে না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

তবে মনে রাখা দরকার, এই পরীক্ষাগুলির কোনওটিই ঘির বিশুদ্ধতার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। নিশ্চিত হতে প্রয়োজন মানসম্মত ল্যাবরেটরি পরীক্ষা। স্বীকৃত পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়। বাড়ির পরীক্ষাগুলি সর্বোচ্চ প্রাথমিক ধারণা দিতে পারে, কিন্তু সেগুলির ফলের উপর ভিত্তি করে কোনও ঘিকে সম্পূর্ণ খাঁটি বা ভেজাল বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কিছুটা ধারণা মেলে। তবে রোজকার ঘরোয়া ব্যবহারের ঘিয়ের জন্য পরীক্ষাগারে ঘি পরীক্ষা করার পরামর্শটিও বেশ খানিকটা ওই ‘মশা মারতে কামান দাগা’র কথা মনে করিয়ে দিতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের সুরক্ষার কথা ভেবে বর্তমান ভেজাল দুনিয়ায় মাঝে মধ্যে এমন যে কামান দাগার অবস্থা তৈরি হচ্ছে না সেকথাও তো দাবি করা যায় না। তাই সর্তকতা যতদূর সম্ভব অনুসরণ করাই বাঞ্ছনীয়। কী বলেন আপনারা? 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *