কী বলছে বাস্তুশাস্ত্র?Image Credit: Gemini Ai

পিগি ব্যাঙ্ক (Piggy Bank) বা মাটির তৈরি লাল রঙের লক্ষ্মীর ভাঁড়ের সঙ্গে কম বেশি সকলেরই ছোটবেলার আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। খুচরো পয়সা জমিয়ে জমিয়ে একটা সময় সেই ভাঁড় ভরিয়ে তোলার আনন্দই ছিল আলাদা। বড় হয়েও অনেকের এই জমানোর অভ্যাস থেকে গিয়েছে। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার এই অতি পরিচিত অভ্যাসটিই রাতারাতি বদলে দিতে পারে আপনার ভাগ্য? বাস্তুশাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘরে শুধু টাকা জমালেই হয় না, সেই জমানোর পাত্রটি কোন দিকে রাখছেন, তার ওপর সরাসরি নির্ভর করে আপনার আর্থিক উন্নতি। ভুল দিকে এই ভাঁড় রাখলে যেখানে পকেট খালি হতে সময় লাগে না, সেখানে সঠিক দিকে রাখলে ধনসম্পদে ভরে উঠতে পারে ঘর!

বাস্তুমতে, টাকা জমানোর ভাঁড় বা পিগি ব্যাঙ্ক রাখার জন্য সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং শুভ দিক হল উত্তর দিক। সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, উত্তর দিককে ধনসম্পদের দেবতা কুবেরের দিক হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই বাড়ির উত্তর দিকে যদি লক্ষ্মীর ভাঁড় রাখা যায়, তবে মা লক্ষ্মীর বিশেষ আশীর্বাদ লাভ করা সম্ভব। এর ফলে পরিবারে ধনসম্পদ যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনই আয়ের নতুন নতুন পথও খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে বলে মনে করা হয়।

অনেকে আবার মাসের শেষে যথেষ্ট টাকা রোজগার করেও সঞ্চয় করতে পারেন না। হাত দিয়ে জলের মতো টাকা গলে যায়। এমন মানুষের জন্য বাস্তুশাস্ত্রে এক দারুণ টোটকা রয়েছে। বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে পিগি ব্যাঙ্ক রাখা অত্যন্ত শুভ। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিম দিকটি সরাসরি সঞ্চয় এবং স্থায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত। এই কোণে মাটির ভাঁড় রাখলে আপনার অনাবশ্যক খরচ একধাক্কায় কমে যাবে এবং ধীরে ধীরে ব্যাঙ্ক ব্যালান্স বাড়তে শুরু করবে।

তবে ভাঁড় রাখার ক্ষেত্রে কিছু কড়া নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে বাস্তুশাস্ত্রে। ভুলেও কখনও বাথরুম বা টয়লেটের কাছাকাছি টাকা জমানোর পাত্র রাখবেন না। একই সঙ্গে বাড়ির সিঁড়ির নীচে বা কোনও অন্ধকার কোণে পিগি ব্যাঙ্ক রাখা অত্যন্ত অশুভ বলে মনে করা হয়। এতে ঘরের ইতিবাচক শক্তি পুরোপুরি নষ্ট হয় এবং দেখা দেয় তীব্র আর্থিক অনটন। তাই আর্থিক সমৃদ্ধি চাইলে পিগি ব্যাঙ্ক সবসময় আলো-বাতাসযুক্ত এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জায়গায় রাখা উচিত।

(এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত সমস্ত তথ্যই বাস্তুশাস্ত্র এবং প্রচলিত বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে। পিগি ব্যাঙ্ক বা জমানোর ভাঁড় নির্দিষ্ট দিকে রাখা আর্থিক উন্নতির ক্ষেত্রে বাস্তুগত সহায়ক মনে করা হলেও, এর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা অকাট্য প্রমাণ নেই।)



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *