নয়া দিল্লি: আর ক’দিন পর থেকে টান পড়তে পারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের জোগানে। দেশজুড়ে পণ্যবাহী পরিবহন সংগঠনের তরফে বৃহত্তর ধর্মঘটের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর জেরে বড়সড় সঙ্কটের আশঙ্কা নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের জোগানে।
জানা গিয়েছে, আগামিকাল থেকে দিল্লি-এনসিআর এলাকায় শুরু হচ্ছে তিনদিনের ধর্মঘট। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দিল্লিগামী সব ট্রাক থামিয়ে দেওয়া হবে। দিল্লি থেকেও দেশের অন্য প্রান্তে কোনও পণ্যবাহী গাড়ি যাবে না।
এই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অল ইন্ডিয়া মোটর ট্রান্সপোর্ট কংগ্রেস। সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে ৬০টি পরিবহন অ্যাসোসিয়েশন এবং ইউনিয়ন। পণ্যবাহী পরিবহনের উপর সরকারের বিপুল কর চাপানো, বিএস ফোর কমার্শিয়াল গাড়ির উপর নিষেধাজ্ঞা সহ একাধিক ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাচ্ছে পরিবহন সংগঠনগুলি।
অল ইন্ডিয়া মোটর অ্যান্ডস গুডস ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের তরফে জানানো হয়েছে, দিল্লিতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এবং দিল্লি সরকারের তরফে বাণিজ্যিক গাড়ির উপরে পরিবেশ ক্ষতিপূরণ চার্জ বা এনভায়রনমেন্ট কমপেনসেশন চার্জ (ECC) বসানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অনৈতিক। এর প্রতিবাদেই ২১ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত চাক্কা জ্যামের ডাক দেওয়া হয়েছে। তবে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পরিবহনকারী গাড়ি গুলির যাতায়াতে ছাড় দেওয়া হবে।
কী কী দাবি ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের?
- দিল্লিমুখী পণ্যবাহী গাড়িতে যে সেস বৃদ্ধি করা হয়েছে, তা তুলে নিতে হবে।
- দিল্লিতে রেজিস্টার নয়, এমন বিএস-৪ কমার্শিয়াল গাড়ির প্রবেশে যে নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে, তা প্রত্যাহার করে নিতে হবে।
- যে গাড়িগুলি দিল্লি হয়ে যাবে, তাদের উপরই কেবল সেস বসাতে হবে।
- অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বহনকারী এবং খালি বিএস-৬ গাড়ির ক্ষেত্রে সেস ছাড় দিতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত মাসেই দিল্লি সরকার বাণিজ্যিক গাড়িতে পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ সেস ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। হালকা বাণিজ্যিক গাড়ি ও টু অ্যাক্সেল ট্রাকের ফি ১৪০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করা হয়েছে। তিন অ্যাক্সেলের ট্রাক ও ভারী ট্রাকের ক্ষেত্রে ফি ২৬০০ টাকা থেকে ৪০০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
