মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে গত মাস কয়েক ধরে দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের সংকট চলছে। এখনও সময়মতো গ্যাস পেতে সমস্যা হচ্ছে গ্রাহকদের। এরই মধ্যে কেন্দ্র ঘোষণা করেছে, গ্যাসের নিরবিচ্ছিন্ন পরিষেবা পেতে হলে ই-কেওয়াইসি করা বাধ্যতামূলক। সেটা না করা হলে আর ভরতুকি তো মিলবেই না উলটে চড়া দামে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হতে পারে। এই ই-কেওয়াইসি করার ডেডলাইন ১৫ আগস্ট। এর মধ্যে না করানো হলে আর নিরবিচ্ছিন্ন পরিষেবা মিলবে না।

কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে গ্রাহকরা ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন না করলে আর স্বাভাবিক নিয়মে গ্যাস বুক করে সিলিন্ডার পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ হাতে আর দিন দশেক রয়েছে। সেক্ষেত্রে খোলাবাজার থেকে সিলিন্ডার কিনতে হবে। যার দাম প্রায় ৩ গুণ। এই মুহূর্তে কলকাতায় ১৪ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৯৬৮টাকা। উজ্জ্বলা যোজনার গ্যাসে আরও ৩০০ টাকা ভরতুকি পান গ্রাহকরা। ই কেওয়াইসি না করানো হলে উজ্জ্বলা যোজনার গ্যাসও মিলবে না। সেক্ষেত্রে খোলাবাজার থেকে বাণিজ্যিক গ্যাস কেনা ছাড়া উপায় থাকবে না। যার দাম এই মুহূর্তে ১৮৭৩ টাকা। জানা গিয়েছে, তেল সংস্থাগুলি গ্রাহকদের ই-কেওয়াইসি করানোর জন্য চাপ দিচ্ছে গ্যাস ডিলারদের। তবে সিংহভাগ গ্রাহকের ওই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে রয়েছে। যা খবর তাতে ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে ৯৩-৯৫ শতাংশ গ্রাহকের।

আরও পড়ুন:

Government Boosts LPG Supply Chain and Consumer Trust
রান্নার গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক রাখতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের। ছবি: সংগৃহীত

কীভাবে করা যাবে ই-কেওয়াইসি?
মন্ত্রক জানিয়েছে, গ্রাহকরা জ্বালানি বিপণনকারী সংস্থাগুলির (যেমন ইন্ডিয়ান অয়েল, এইচপি বা ভারত গ্যাস) মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে পারবেন। পাশাপাশি আধার ফেসআরডি অ্যাপের মাধ্যমেও স্মার্টফোন থেকে বাড়িতে বসেই ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সারা যাবে। এছাড়াও গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে গিয়ে আঙুলের ছাপ (Fingerprint) বা আইরিস স্ক্যানের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করতে পারবেন।

কেন করানো হচ্ছে ই-কেওয়াইসি?
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক সূত্রে খবর, সারা দেশে রান্নার গ্যাসের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও একটি বড় অংশ অসাধু উপায়ে গৃহস্থের গ্যাসকেই বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ব্যবহার করছে। এমনকী গৃহস্থালির জন্য বরাদ্দ ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডার অনেক সময় হোটেল, রেস্তোরাঁ বা কলকারখানায় পাচার হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ গ্রাহকরা সময়মতো সিলিন্ডার পাচ্ছেন না এবং কৃত্রিম সরবরাহ সংকট তৈরি হচ্ছে। এই কালোবাজারি আটকাতেই নয়া নিয়ম আনা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *