রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর Image Credit: TV 9 Bangla
হুগলি: বাংলায় পদ্ম ফুটবে কিনা তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। উত্তর পেতে ৪ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে। এদিকে ভোটের পারদের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই গোটা রাজ্যেই বাড়ছে গরম। ইতিমধ্যেই পশ্চিমাঞ্চলের পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই তীব্র গরমের মধ্যেও পান্ডুয়ার জলাশয়ে দেখা মিলছে পদ্মের। যা নিয়ে তর্জায় তৃণমূল বিজেপি। এমনিতে বর্ষা-শরৎ মানে ওই জুন থেকে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্তই পদ্মের দেখা বেশি মেলে। তবে শরৎকালে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু এখন আচমকা পান্ডুয়ার জলাশয়ে অকাল পদ্মের দেখা মিলতেই তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর।
এমনিতেই পদ্ম ফুলের ব্যাপক চাহিদা থাকে দুর্গাপুজোয়। তবে ভোটের উত্তাপে পদ্ম ফুল ফুটতে দেখে মৃদু হাসছে বঙ্গ বিজেপি। রাত পোহালেই প্রথম দফার ভোট। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ভোট রয়েছে হুগলিতে। প্রখর রোদ ও গরমকে উপেক্ষা করেই ভোটের প্রচার সারছেন সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। তার মধ্যেই এবার জোর চর্চা চলছে পদ্ম রাজনীতি নিয়ে।
হুগলির পান্ডুয়া ব্লকের বৈঁচি এলাকায় একরের পর একর জলাশয়ে পদ্মের চাষ হয়। এলাকার লোকজন বলছেন প্রতি বছর দুর্গাপুজোয় পদ্মের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও এবার ভোটের বাজারেও চর্চায় পদ্ম। কিন্তু তারপরেও দাম নেই, দাবি চাষিদের। খানিক আক্ষেপের সুরেই ফুল চাষি অচিন্ত্য রায় বলেন, “ডিসেম্বর জানুয়ারির পর এই সময়টায় পদ্ম গাছ শীতঘুমে থাকে। ফেব্রুয়ারি থেকে আবার নতুন গাছ শুরু হয় যেখানে জল বেশি হয় সেখানেই পদ্ম হয়। তবে এখন অনুষ্ঠান অনেক কম তাই পদ্মের চাহিদা কম। এখন পদ্মের দাম নেই।”
খানিক হতাশার সুরেই অচিন্ত্যবাবু আরও বলছেন, “দুর্গাপুজোর সময় এই পদ্ম ফুলের চাহিদা থাকে তখন একটা ফুলের দাম হয় কুড়ি টাকা। এখন কুড়িটা ফুলের দাম কুড়ি টাকা। প্রতীক পদ্মের কদর থাকলেও পদ্ম ফুলের দাম নেই। পদ্মের ফোটা ফুল বিক্রি হয় না। বিক্রি হয় কলি।”
যদিও বিজেপি বলছে অন্য কথা। এক বুক পরিবর্তনের আশা নিয়ে পান্ডুয়ার বিজেপি প্রার্থী তুষার মজুমদার বলছেন, “দুর্গাপুজোর সময় পদ্মফুল ফোটে। সেই ফুল দেবীর সন্ধিপুজোর কাজে লাগে। বঙ্গে ভোট তাই এবার পদ্ম ফুটছে, বোধন শুরু হয়েছে। রোদে ঘাসফুল ঝরে যাবে।”
পাল্টা বিজেপিকে কটাক্ষ করে শ্রীরামপুর হুগলি সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় ঘোষ বলেন, বিজেপির দিবাস্বপ্ন। স্বপ্নই থেকে যাবে ,বাংলায় তারা কোনদিনও পদ্ম ফোটাতে পারবে না। ফের জোড়া ফুল ফুটবে বঙ্গে।
