কী বলছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা?Image Credit: TV9 Bangla
কলকাতা: প্রত্যেকের চোখে মুখে আতঙ্ক। ভয় এখনও কাটেনি। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা দেখে অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়েও বারবার শিউরে উঠছেন। নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর পর অতিথিরা সকালে হোটেল ছাড়তে শুরু করেন। আর ব্যাগ পত্তর নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁদের চোখে মুখে আতঙ্ক। কেউ অভিযোগ করলেন, ফায়ার এলার্ম বাজেনি। হোটেলের লিফট বন্ধ ছিল। কেউ দমকলের তৎপরতার প্রশংসা করলেন।
ভোররাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটে ওই হোটেলে আগুন লাগার পর দমবন্ধ হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা আগের সেই সময়ের কথা স্মরণ করে শিউরে উঠছেন ওই হোটেলের অতিথিরা। ওই হোটেলের এক অতিথি বলেন, “আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ দরজায় জোরে জোরে ধাক্কা। জানতে চাওয়ায় বলল হোটেল বয়। খুলব কি না, সেটা ভেবে ভয় পাচ্ছিলাম। কেন ধাক্কা দিচ্ছে। ভয়ে খুললাম। দরজা খুলতেই হোটেল বয় বললেন, দাদা হোটেলে আগুন লেগেছে। আমরা দোতলায় ছিলাম। সঙ্গে সঙ্গে নিচে নেমে আসি।”
বাংলাদেশ থেকে আসা এক ব্যক্তি বলেন, “আমরা নিচের রুমে ছিলাম। যখন আগুনটা লাগে, লোকজন হইচই করছে শুনে আমরা বেরিয়ে আসি। দেখি, ধোঁয়ায় চারিদিক ভরে গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা বেরিয়ে আসি। দমকল এসে মই দিয়ে লোক নামায়। যারা চারতলা, পাঁচতলায় ছিলেন, তাঁরা ভয় পেয়ে ছাদে উঠে যান।”
ওই হোটেলের আর এক অতিথি কথা বলতে গিয়েও কেঁপে উঠলেন। এখনও আতঙ্কে রয়েছেন। বললেন, “কীভাবে বেঁচে গেলাম, ওটাই…”। কথা শেষ করতে পারলেন না। বিড়বিড় করতে থাকলেন, “একদম পারছি না।” আতঙ্কে তাঁরা হোটেল ছাড়ছেন বলে জানালেন। ফায়ার এলার্ম বাজেনি বলে অভিযোগ করলেন। লিফটও বন্ধ ছিল। তিনি বলেন, “আমরা ৪ জন ছিলাম। নিজেরাই দৌড়ে বেরিয়ে আসি। কেউ সাহায্য করেনি।”
দমকল ও পুলিশের প্রশংসা করে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “খবর পেয়েই দ্রুত পৌঁছে যায় দমকল বাহিনী। দমকল ও পুলিশ খুব ভালো কাজ করেছে। সবাইকে দ্রুত হোটেল থেকে বের করেছে।”
