ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লেন ইঞ্জিনিয়ার।Image Credit: TV9 বাংলা
আরামবাগ: অক্ষয় কুমারের খাট্টা-মিঠা সিনেমা মনে আছে? সেখানে নায়িকা তৃষাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল কেন, খেয়াল পড়ছে? সেই সিনেমা ছাড়ুন। এবার বাস্তবেই পুরো সিনেমার মতো দৃশ্যপট দেখা গেল। বিডিও অফিসে বসে ঘুষ নিচ্ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার! জলে হাত চোবাতেই বদলে গেল রং, বেগুনি হয়ে গেল তরল। হাতেনাতে পাকড়াও করা হল অভিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ারকে।
উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের টেন্ডার পাশ করানো এবং কাজের বিল মঞ্জুর করার নামে ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে পাকড়াও হলেন সরকারি জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার বিমল সাহা। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ১১ ঘণ্টা ধরে লাগাতার জেরার পর গভীর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখার (এসিবি) অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আজ, শুক্রবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশ্বজিৎ মল্লিক নামে এক ঠিকাদারের বকেয়া বিল পাশ করানো এবং কাজ ছাড়ার অনুমতি দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে টাকা দাবি করছিলেন জামবনী ব্লকে কর্মরত ওই ইঞ্জিনিয়ার। ঠিকাদার বিশ্বজিৎ মল্লিকের অভিযোগ, “আমার কাছে বারংবার ঘুষ চাওয়া হত। উনি বলতেন, এই টাকার ভাগ শুধু তাঁর একার নয়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও দিতে হবে। লোকটা এক বিরাট মাপের রাক্ষস।”
নিরুপায় হয়ে শেষ পর্যন্ত ওই ঠিকাদার রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখার দ্বারস্থ হন। অভিযোগ পাওয়ার পরেই ঘুঁটি সাজান গোয়েন্দারা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জামবনী বিডিও অফিস ও আবাসন চত্বরে ওৎ পেতেছিলেন দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেমিক্যাল মাখানো চিহ্নিত নোট নিয়ে ঠিকাদার বিশ্বজিৎ মল্লিক যখন বিমল সাহার কোয়ার্টারে যান এবং বিমল সাহা টাকাটা গুনে দেখছিলেন, ঠিক তখনই তাঁকে হাতেনাতে পাকড়াও করে এনফোর্সমেন্ট টিম।
গ্রেফতারের পরপরই বিমল সাহাকে জামবনীর বিডিও অফিসে নিয়ে আসা হয়। সেখানে বিডিও-র চেম্বারে বসিয়ে দুর্নীতি দমন শাখার উচ্চপদস্থ কর্তারা টানা সাড়ে ১১ ঘণ্টা ধরে তাঁকে ম্যারাথন জেরা করেন। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে গভীর রাতে তাঁকে নিয়ে এসিবি-র অফিসে রওনা দেন আধিকারিকরা। ধৃত ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আজ তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে চেয়ে আদালতে তোলা হয়।
