কলকাতা: একদিকে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে মমতাদের সভা, অন্যদিকে মেয়ো রোডে ঋত শিবিরের সভা। একুশের সভায় ‘ভাঙা তৃণমূলের’ বেনজির ছবি দেখল বাংলা। এক শিবির থেকে ধেয়ে এল তোপ, উত্তর দিল অন্য শিবির। এরইমধ্যে ঘাসফুলের প্রতীক কার তা নিয়েও চলল জোরদার চাপানউতোর। সুর চড়ালেন মমতা। বিজেপির সঙ্গে বিদ্রোহী শিবিরের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তাঁর সাফ কথা, “তুমি আমার সিম্বল কাড়লে মানুষ যে সিম্বল গ্রহণ করবে, তা আমি ছাড়ব না। দরকারে সুুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাব। আমি ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট, আইনত আমাদের সিম্বল কাড়তে পারে না। গায়ের জোরে করছে, যেভাবে গায়ের জোরে ভোট করেছে। আর যদি কাড়ো তাহলে মনে রাখবে তোমাদের সবটা কেড়ে নেব।” এরপরই তাঁর সংযোজন, “মানুষ যেটা হৃদয় থেকে গ্রহণ করে সেটাই দলের প্রতীক হয়। সেটাই দলের সম্পদ হয়, সেটাই দলের ঐতিহ্য হয়, সেটাই দলের ইতিহাস হয়।”

অন্যদিকে দলের অন্দরে যে আগে থেকেই ঘুন ধরেছিল সেই কথা এদিন প্রকারন্তরে মেনে নেন মমতা। অভিষেকের বিরুদ্ধে কেসের পর কেস নিয়ে তুলোধনা করেন বিজেপির। যদিও তাঁর সাফ কথা, কোনও কেসেরেই প্রমাণ দেওয়া সম্ভব নয়। বলেন, “আমাদের কয়েকটা নির্দিষ্ট লোক করে খেয়েছে। আজ বিজেপি তাঁদের রক্ষাকবচ হয়েছে। পাড়া লোকেরা আপনাদের বের হতে দিচ্ছে না। পুলিশ নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে। আমার কোনও সিকিউরিটি নেই, অভিষেকের কোনও সিকিউরিটি নেই। আমরা একা। অভিষেকের বিরুদ্ধে চারসো কেস হয়েছে। কিন্তু কোনও কেসে প্রমাণ দিতে পারবে না।”  

দলীয় কর্মীদের অভয়া বার্তা দিতে দেখা যায় মমতাকে। একইসঙ্গে প্রয়োজনে দিল্লির ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনেও তাঁর সমর্থনের কথা দরাজ কণ্ঠেই বলেন। বিদ্রোহীদের ভোগী বলে কটাক্ষ করে মমতার সাফ কথা, “আজও যাঁরা ভয় পাচ্ছেন, তাঁরা রুখে দাঁড়ান। মানুষ আজ বড় অসহায়, মানুষের পাশে দাঁড়ান। দরকার হলে ককরোচের প্রোগ্রামে আমি নিজেও যাব। কারণ আমাদের সাপোর্ট প্রথম থেকেই ছিল, আছে, থাকবে। আর সবাই মিলে আমরা যদি রাস্তায় নামি, তখন সব ক’টাকে পালাতে হবে। পালিয়ে মুখ রক্ষা করতে হবে।”  



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *