মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে ভাঙন, দলের নেতাদের শূন্যতায় সুযোগ বাড়ছে বামেদের? বঙ্গ রাজনীতিতে ফের ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে সিপিএম? ঠিক এই আবহেই এবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের সক্রিয় রাজনীতিতে আগের মতো অংশ নেওয়ার আহ্বান জানালেন সিপিএমের যুবনেত্রী দীপ্সিতা ধরের। সোমবার কলেজ স্ট্রিটের এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ বিজেপি বিরোধী হিসেবে ৮০টা আসনে তৃণমূলকে জিতিয়েছিল। কিন্তু দেখলাম, তৃণমূল প্রায় পুরোটাই বিজেপিতে মিশে গেল, টিমটিম করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লয়ালিস্ট কিছুজন বেঁচে রয়েছেন। কিন্তু তাঁরাও সাধারণ মানুষের যা ইস্যু তা নিয়ে রাস্তায় নামতে পারছেন না, নিজেদের ঘর গোছাতেই এতটা ব্যস্ত রয়েছেন।” এ প্রসঙ্গে দীপ্সিতার আরও বক্তব্য, বামপন্থীরা তো প্রথম দিন থেকে লড়াই করছে।
সিপিএম নেত্রীর কথায়, ‘‘মমতা আমাদের সাহায্য করছেন কিনা বলতে পারব না। তবে যা হয়েছে, তাতে বাংলার মানুষ বিপন্ন হয়েছেন। অনুরোধ করব আপনি প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে আসুন। এতগুলো মানুষ তো আপনাকেই ভরসা করেছিল। ৮০টা আসনে তো আপনারাই জিতেছিলেন। আপনার দলের একের পর এক নেতা বিজেপির কাছে আত্মসমর্পণ করছেন এগুলোকে আটকান।”
আরও পড়ুন:
তাহলে এই মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি রাজনৈতিক সুবিধা করে দিচ্ছেন বামপন্থীদের? এপ্রশ্নের জবাবে দীপ্সিতার দাবি, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ভেঙে গিয়েছে, তাতে আমি ব্যক্তিগতভাবে আনন্দ পাইনি। যদিও আমি খুশি যে তিনি মুখ্যমন্ত্রী নন।” তৃণমূলে ভাঙনের সঙ্গে দীপ্সিতা মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যগুলিতে বিজেপির ক্রূঢ় রাজনীতির তুলনা করেছেন। তাঁর মতে, ‘‘যেভাবে মমতার দল ভাঙা হয়েছে, সেটা বিজেপির একটা পরিণত চাল, যেটা আমরা আগে মহারাষ্ট্রে দেখেছি। যে সমস্ত রাজনৈতিক দলকে রাজনৈতিকভাবে হারাতে পারছেন না, তাঁদের মধ্যে থেকে কিছু দালালদের কিনে নিয়ে গণতান্ত্রিক পরিসরে একটা বিরোধী শূন্য করে দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে।” সিপিএম নেত্রীর কথায়, ‘‘মমতা আমাদের সাহায্য করছেন কিনা বলতে পারব না। তবে যা হয়েছে, তাতে বাংলার মানুষ বিপন্ন হয়েছেন। অনুরোধ করব আপনি প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে আসুন। এতগুলো মানুষ তো আপনাকেই ভরসা করেছিল। ৮০টা আসনে তো আপনারাই জিতেছিলেন। আপনার দলের একের পর এক নেতা বিজেপির কাছে আত্মসমর্পণ করছেন এগুলোকে আটকান।”
দিনকয়েক আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি বিরোধিতায় সিপিএমকেও কাছে টানার আহ্বান জানিয়েছিলেন। দলের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির সঙ্গে চিঠি ও ফোনে তিনি যোগাযোগ করেছিলেন। এই আবহে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে দীপ্সিতার এই বার্তা যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
