ডিজিটাল লেনদেনকে জনপ্রিয় করার দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরে তার খরচের বোঝা কি ফের আমজনতা বা ব্যবসায়ীদের ঘাড়ে চাপানো হবে?

ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম বড় সাফল্য ‘ইউপিআই’। নগদহীন লেনদেনকে সহজ, দ্রুত ও প্রায় সর্বজনীন করে তোলার ক্ষেত্রে ইউপিআই যে বিপ্লব ঘটিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। কিন্তু সেই ব্যবস্থাতেই যদি ফের লেনদেনের মাশুল বসানোর প্রস্তুতি শুরু হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে, ডিজিটাল লেনদেনকে জনপ্রিয় করার দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরে তার খরচের বোঝা কি ফের আমজনতা বা ব্যবসায়ীদের ঘাড়ে চাপানো হবে? যদিও সরকার এখনও ইউপিআই লেনদেনে মাশুল বসানোর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি, তবে নীতিগত প্রস্তুতি যে শুরু হয়েছে, তার ইঙ্গিত মিলেছে ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটলমেন্ট সিস্টেমস’ আইনের সংশোধনে।

আরও পড়ুন:

‘ট্যাক্সেশন অ্যান্ড আদার লজ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’-এর মাধ্যমে কোন ধরনের লেনদেনে মাশুল বসানো যাবে, তা বিজ্ঞপ্তি জারির ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, লোকসভায় বিলটি কোনও বিতর্ক ছাড়াই পাস হয়েছে।

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার সাম্প্রতিক মন্তব্য, ইউপিআইয়ের জন্য ‘কাউকে না কাউকে মূল্য দিতে হবে’-এই বাস্তবতার দিকটিই সামনে আনে। কিন্তু সেই ‘কেউ’ যদি শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তা হয়, তাহলে ডিজিটাল লেনদেনকে উৎসাহ দেওয়ার সরকারি নীতির সঙ্গে তার সংঘাত তৈরি হবে।

আগে ইউপিআই এবং রুপে ডেবিট কার্ডের লেনদেন মাশুল থেকে স্পষ্টতই অব্যাহতি পেয়েছিল। এখন, সরকারি সূত্রের বক্তব্য, প্রাথমিকভাবে বড় ব্যবসায়ী, যাদের বার্ষিক লেনদেন ১ কোটি থেকে দেড় কোটি টাকার বেশি, তাদের ক্ষেত্রে এবং ২,০০০ টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে মাশুল বসানোর কথা ভাবা হচ্ছে। তাতে মোট ইউপিআই লেনদেনের মাত্র ৫ শতাংশ এর আওতায় আসবে। ফলে সামান্য মাশুল দিয়ে শুরু হয়ে একদিন তা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনেও পৌঁছে যাবে না, তার নিশ্চয়তা কোথায়?

যদিও সরকার এখনও ইউপিআই লেনদেনে মাশুল বসানোর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি, তবে নীতিগত প্রস্তুতি যে শুরু হয়েছে, তার ইঙ্গিত মিলেছে ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটলমেন্ট সিস্টেমস’ আইনের সংশোধনে।

এ-কথাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ইউপিআই ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো, নিরাপত্তা এবং উদ্ভাবনের খরচ রয়েছে। ২০২০ সাল থেকে ইউপিআই লেনদেন মেলে কার্যত নিখরচায়। ব্যাঙ্ক ও পেমেন্ট সংস্থাগুলির বক্তব্য, এতদিন এই খরচের বড় অংশ তাদেরই বহন করতে হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার সাম্প্রতিক মন্তব্য, ইউপিআইয়ের জন্য ‘কাউকে না কাউকে মূল্য দিতে হবে’-এই বাস্তবতার দিকটিই সামনে আনে। কিন্তু সেই ‘কেউ’ যদি শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তা হয়, তাহলে ডিজিটাল লেনদেনকে উৎসাহ দেওয়ার সরকারি নীতির সঙ্গে তার সংঘাত তৈরি হবে।

সবচেয়ে বড় আশঙ্কা, ব্যবসায়ীরা এই অতিরিক্ত খরচ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম বা পরিষেবার মূল্যের সঙ্গে যোগ করে তা ভোক্তার ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে পারে। বিশেষত ছোট ব্যবসা, খুচরো বাজার এবং সাধারণ ক্রেতাদের ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা ইউপিআইয়ের বিস্তারকে ধাক্কা দিতে পারে। নোটবন্দির পরে নগদের ‘বিকল্প’ হিসাবে যে ডিজিটাল পরিকাঠামোকে দ্রুত জনপ্রিয় করা হয়েছিল, তার সাফল্যের জন্য এই সম্ভাব্য পশ্চাদ্গমন মোটেই কাম্য নয়। ইউপিআইকে রাজস্ব আদায়ের আরও একটি পথ না বানিয়ে, তাকে দেশের ডিজিটাল পরিকাঠামোর অংশ হিসাবেই দেখা উচিত। তাই সরকারকে স্বচ্ছভাবে ‘বিকল্প’ অর্থের উৎস খুঁজতে হবে। ডিজিটাল ভারতের সাফল্যের মূল্য যেন সাধারণ মানুষকে চোকাতে না হয়!

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *