বার বার হেঁচকি উঠে অস্বস্তি? জল, শ্বাস বন্ধ কিছুই কাজ করছে না? ডাক্তারদের মতে জিভের নিচে এই সাধারণ জিনিস ১০সেকেন্ড রাখলেই ডায়াফ্রামের খিঁচুনি বন্ধ।

অফিসের প্রেজেন্টেশন চলছে। বস সামনে। আর ঠিক তখনই “হিক্ক”। একবার নয়, পরপর ৫-৬ বার। জল খেলেন, নাক চেপে শ্বাস আটকালেন, বন্ধু পেছন থেকে ভয় দেখালো – কিছুতেই থামছে না। লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতে ইচ্ছে করছে।

এই পরিস্থিতি আমাদের সবার জীবনে এসেছে। আর সবচেয়ে বিরক্তিকর হল, হেঁচকি কখন আসবে তার কোনও ঠিক নেই। কিন্তু যাওয়ার সময়ও নেই। আজ আর ভুগতে হবে না। কারণ আজ আপনাকে এমন একটা টোটকা দেব যেটা আপনার রান্নাঘরেই আছে। আর লাগবে মাত্র ১০সেকেন্ড। কোনও জল, কোনও দৌড়াদৌড়ি নয়। শুধু জিভের নিচে এই ১টি জিনিস রাখুন। Mayo Clinic থেকে শুরু করে গ্রামের দিদা – সবাই এই ট্রিক মানে।

হেঁচকি আসলে কী? আর ১০ সেকেন্ডে থামবে কীভাবে

আমাদের ফুসফুস আর পেটের মাঝখানে ডায়াফ্রাম নামের একটা পেশি আছে। এটা পাম্পের মতো ওঠানামা করে আমাদের শ্বাস নিতে সাহায্য করে। কিন্তু যখন আমরা খুব জোরে খাই, কার্বোনেটেড ড্রিংক খাই, বা হঠাৎ ভয় পাই, তখন এই ডায়াফ্রামে খিঁচুনি লাগে। আর তখনই গলা দিয়ে “হিক্ক” আওয়াজ বের হয়।

এই খিঁচুনি থামানোর চাবিকাঠি হল আমাদের শরীরের “ভেগাস নার্ভ”। এই নার্ভ ডায়াফ্রামকে কন্ট্রোল করে। বিজ্ঞান বলছে, জিভে যদি হঠাৎ কোনও স্ট্রং স্বাদ দেওয়া যায়, তাহলে ব্রেনের অ্যাটেনশন সেদিকে ঘুরে যায়। আর তখন ভেগাস নার্ভ রিসেট হয়ে যায়। ফলাফল – হেঁচকি বন্ধ।

১০ সেকেন্ডের ম্যাজিক: জিভের নিচে ১ চামচ চিনি

এটা শুনতে যতই সিম্পল লাগুক, কাজ করে ৯০% ক্ষেত্রে।

কীভাবে করবেন স্টেপ বাই স্টেপ:

১: ছোট চামচে ১ চামচ দানাদার চিনি নিন। গুঁড়ো চিনি নয়, দানা চিনি চাই।

২ : চিনিটা সরাসরি জিভের একদম গোড়ায়, গলার কাছে ফেলে দিন। জিভের নিচে রাখুন।

৩ : ১০ সেকেন্ড পর্যন্ত চুষতে থাকুন। তাড়াহুড়ো করে গিলবেন না। দানাগুলো ধীরে ধীরে গলতে দিন।

৪: ১০ সেকেন্ড পর আস্তে আস্তে জল দিয়ে গিলে ফেলুন।

রেজাল্ট? বেশিরভাগ মানুষের হেঁচকি প্রথম চামচেই বন্ধ হয়ে যায়।

চিনি কেন কাজ করে? এর পেছনের বিজ্ঞান:

দানাদার চিনি জিভের নিচে গেলে দুটো কাজ করে। এক, মিষ্টি স্বাদ ব্রেনকে সারপ্রাইজ দেয়। দুই, দানাগুলো জিভের নার্ভে হালকা “জ্বালা” তৈরি করে। এই দুটো মিলে ভেগাস নার্ভের ফোকাস ঘুরিয়ে দেয়। আর ডায়াফ্রামও রিল্যাক্স হয়ে যায়।

এজন্যই ডাক্তাররা ছোট বাচ্চাদের হেঁচকি থামাতে চিনি মেশানো জল দেন। এটা সম্পূর্ণ নিরাপদ।

চিনি নেই বা ডায়াবেটিস আছে? এই ৩টে বিকল্প রাখুন

১. এক চিমটি লবণ

একই নিয়ম। জিভের নিচে ১০ সেকেন্ড। নোনতা স্বাদও একইভাবে নার্ভকে ডিস্টার্ব করে।

২. পাতিলেবু + নুন

একটা লেবুর ফালি কেটে তাতে নুন লাগিয়ে চুষুন। টক-ঝাল কম্বো ৫ সেকেন্ডে হেঁচকি উড়িয়ে দেয়।

৩. এক চামচ মধু

ঘন মধু জিভের পেছনে আটকে থাকলে ডায়াফ্রামের পেশি শিথিল হয়। ধীরে ধীরে গিলুন।

কখন সাবধান হবেন?

যদি ২ দিনের বেশি টানা হেঁচকি হয়, সাথে বমি, পেটে ব্যথা, বা শ্বাসকষ্ট থাকে, তাহলে এটা আর সাধারণ হেঁচকি নেই। তখনই ডাক্তার দেখান। এটা অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা নার্ভের সমস্যা হতে পারে। জীবনকে সহজ করুন। পরের বার হেঁচকি উঠলে জলের বোতল না খুঁজে পকেটে ৪-৫ দানা চিনি রাখুন। মনে রাখবেন, সবচেয়ে বড় সমস্যার সমাধানও মাঝে মাঝে সবচেয়ে ছোট জিনিসেই লুকিয়ে থাকে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *