বর্ধমান: চুরির পর ফ্রিজের খাবার খেত। শুধু খাবার কেন, ফ্রিজে রাখা মদের বোতল থেকে গ্লাসে মদ ঠেলে, সঙ্গে চাটও! তারপর হাল্কা করে আরাম করে ফের গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা! ট্রেনে এসে ট্রেনেই বিহারে ফিরে যেত তস্করের দল। বর্ধমানের একটি চুরির ঘটনার তদন্তে নেমে তদন্তকারীদের হাতে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেখানেই মদ-খাবার সবই খায় চোরের দল। কিন্তু মদের দোকানের ছিপি আটকাতে গিয়ে পড়ে যায় একটা কাগজ। সূত্র সেখানেই। নিজেদের পরিচয় ও অবস্থান গোপন রাখতে যাযাবরের মতো জীবন কাটাত করত অভিযুক্তরা। এমনকি মোবাইল ফোনও ব্যবহার করত না। ট্রেনে চড়ে বর্ধমানে এসে চুরি করে ফের ট্রেনেই বিহারে ফিরে যেত বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

বর্ধমান শহরের উল্লাস উপনগরীতে পরপর পাঁচটি বাড়িতে চুরির ঘটনায় তদন্তে নেমে বিহারের ভাগলপুর জেলার চার বাসিন্দাকে গ্রেফতার করে বর্ধমান থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম দীপক কুমার, মিত আদিবাসী, সুরেন্দার পাওয়ার এবং বিকাশ কারে। তাঁদের বাড়ি বিহারের ভাগলপুর জেলার হনুমান চক থানা এলাকায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।

জানা গিয়েছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে উল্লাস উপনগরীর ৩ ও ৪ নম্বর লেনের পরপর পাঁচটি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। অধিকাংশ বাড়িতেই বাসিন্দারা না থাকার সুযোগ নেয় দুষ্কৃতীরা। তালা ভেঙে, দরজা ও জানালার গ্রিল কেটে বাড়ির ভিতরে ঢুকে গহনা, নগদ টাকা-সহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

ঘটনার তদন্তে নেমে বিভিন্ন সূত্র খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে পুলিশ।  মদের বোতলের ঢাকনি লাগানোর সময়েই একটা কাগজ পড়ে যায়। সেই সূত্র ধরেই তদন্ত এগোয় পুলিশ।  ঘটনার চার দিনের মধ্যেই বিহারের ভাগলপুর থেকে চারজনকে গ্রেফতার করা হয় বলে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা জানিয়েছে, নিজেদের অবস্থান গোপন রাখতে তারা নির্দিষ্ট কোনও জায়গায় দীর্ঘদিন থাকত না। মোবাইল ফোনও ব্যবহার করত না বলে তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছে তারা। ট্রেনে করে বর্ধমানে এসে চুরি করার পর ফের ট্রেনেই বিহারে ফিরে যেত।

রবিবার ধৃত চারজনকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। একই দিনে বিকেলে উল্লাস উপনগরীতে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণও করানো হয়। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে বর্ধমান থানার পুলিশ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *