কমনওয়েলথ গেমসের মঞ্চে ভারতকে সোনা উপহার দিয়েছেন ত্রিপুরার অস্মিতা দে। ইতিহাস গড়ে তিনিই প্রথম ভারতীয় জুডোকা যিনি এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে সোনার পদক ছিনিয়ে এনেছেন। ঘরের মেয়ের এমন অভূতপূর্ব সাফল্যে উচ্ছ্বসিত গোটা দেশ তথা তাঁর নিজের রাজ্য ত্রিপুরা। দেশের নাম উজ্জ্বল করা এই তরুণী ক্রীড়াবিদকে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংবর্ধনা জানাল ঐতিহ্যবাহী শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্স।

ত্রিপুরার বিলোনিয়ার মতো ছোট একটি শহর থেকে অস্মিতার যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেখানেই জুডোর হাতেখড়ি। অদম্য ইচ্ছা এবং জেদের ভরসায় প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শেষে তিনি পাড়ি দেন ভোপালের স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (SAI) রিজিওনাল সেন্টারে। সেখানে উন্নত ও কঠোর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের জন্য তৈরি করেন অস্মিতা। এরপর আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। খেলো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি গেমসে সোনা জেতার পর ২০২৩-২৪ সালের জুনিয়র ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপেও শীর্ষস্থান দখল করেন তিনি। ২০২৫ সালে কাসাব্লাঙ্কায় অনুষ্ঠিত আফ্রিকান ওপেনেও তাঁর গলায় ওঠে সোনা। এছাড়া ম্যাকাও ও ব্যাংককের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতেও নিজের সাফল্যের ছাপ রেখেছিলেন এই তারকা।

আরও পড়ুন:

অস্মিতার পাশাপাশি তাঁর এই রূপকথার পেছনের মূল কারিগরদেরও বিশেষ সম্মান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সম্মানিত করা হয় তাঁর মেন্টর প্রণব সাহা, চিফ কোচ তথা অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত যশপাল সোলাঙ্কি এবং ব্যক্তিগত কোচ প্রাক্তন ব্রোঞ্জ পদকজয়ী বিজয় যাদবকে। নিজের রাজ্যে এমন আবেগঘন অভ্যর্থনা পেয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন অস্মিতা। তিনি জানান, “আমার প্রিয় নিজের রাজ্য থেকে এই সংবর্ধনা পাওয়া আমার কাছে অত্যন্ত গর্বের ও আবেগের বিষয়। এই সুযোগে এমন সুন্দরভাবে আমাকে ঘরে ফেরার অভ্যর্থনা জানানোর জন্য শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”

চিফ কোচ যশপাল সোলাঙ্কি জানান, এই ধরনের স্বীকৃতি তাঁদের দায়িত্ব অনেকটাই বাড়িয়ে দিল। তাঁদের পরবর্তী একমাত্র লক্ষ্য অলিম্পিকের মঞ্চে ভারতের জাতীয় পতাকা উড়ানো। অস্মিতার মতো প্রতিভাকে সম্মান জানাতে পেরে গর্ব প্রকাশ করেন শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সের ডিরেক্টর রূপক সাহা। তিনি বলেন, “ত্রিপুরার অস্মিতা দে-কে সংবর্ধিত করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি শুধু ভারতের জন্য গর্ব বয়ে আনেননি, তাঁর সাফল্য দেশের অন্যান্য প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ক্রীড়াবিদদেরও অনুপ্রাণিত করবে। দেশের ভবিষ্যৎ যুবসমাজের হাতেই। তাই অস্মিতার মতো তরুণ প্রতিভাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে সোনা জয় করতে দেখা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। আমরা এখন থেকে অস্মিতার গলায় অলিম্পিকের পদক দেখার অপেক্ষায় রইলাম l”

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *