অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়Image Credit: Tv9 Bangla

কলকাতা: ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধারের ঘটনায় সরগরম রাজ্য-রাজনীতি। এবার এই নিয়ে মুখ খুললেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, পুরোটাই পুলিশের সাজানো চিত্রনাট্য। বলেন, এত দুর্বল চিত্রনাট্য় বোধ গত পঞ্চাশ বছরে মানুষ দেখেনি। ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দেন তিনি।

কালীঘাটে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, “কাল থেকে যে খবরটা চলছে যে সরিষায় ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূল কংগ্রেসের একটা পার্টি অফিস, সেখানে আমার আত্মসহায়ক, সুমিত রায় তাঁকে গত ৩১ তারিখ কালিতলা আসুতির একটা কেসে কাস্টডিতে নেওয়া হয়েছে,তাঁকে নিয়ে নাকি রেইড করে একটা পার্টি অফিস থেকে ১ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ কতটা অপদর্থ হলে এই দুর্বল চিত্রনাট্য রচনা করতে পারে।”

ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে অভিষেক বলেন, “২২ মে আমরা একটা অভিযোগ করেছিলাম ওসি ডায়মন্ড হারবার থানায়। ওসিকে অ্যাড্রেস করে একটা চিঠি দিয়েছিলাম। তারা এই চিত্রনাট্যটা বানানোর আগে এই চিঠিটার কপি হয়তো দেখেনি, বা ভুলে গেছে। ২২ মে এই চিঠিটা দেওয়া হয়েছে ইমেইল-এর মাধ্যমে।” এরপর রিসিভিং কপিও দেখান তিনি। বলেন, “২৩ তারিখের চিঠিটা রিসিভ করা হয়,আর ২২ তারিখ ইমেইল করা হয়। ২১ তারিখ এই পার্টি অফিসের মালিক ছিলেন, তাঁকে ফেরত দিয়ে দেওয়া হয় দুপুরবেলায়। আমরা চিঠিতে সেটা মেনশন করেছি। ২১ তারিখ-২২ তারিখ মধ্যরাতে, রাতের ১টা-দেড়টা নাগাদ, বিজেপির গুন্ডারা এই পার্টি অফিসে ভাঙচুর করে তাণ্ডব চালায়।”

অভিষেকের আরও অভিযোগ, “পুরো পার্টি অফিস ভাঙা হয়, ভিতরে ঢুকে তাণ্ডব চালানো হয়। এমনকি আমার আমতলা অফিসও ভাঙা হয়েছে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে ইমেইল করে পুলিশকে জানাই, এবং অভিযোগে খুব স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে, এটা আজকে নয়, আজ থেকে সাড়ে ৫ মাস আগে। সাড়ে ৫ মাস! অর্থাৎ আমরা আশঙ্কা করছি যে গুন্ডারাই ভাঙচুরটা করেছে,তারা হয়তো কিছু প্ল্যান্ট করে যাবে। এই চিঠিটা আমরা ২২ মে ইমেইল করে পাঠিয়েছি, আজ থেকে সাড়ে ৫ মাস আগে। সাড়ে ৫ মাস পরে হঠাৎ পুলিশের মনে হলো, একটা ক্রাইম সিন, যেখানে পুলিশ গিয়ে ইনভেস্টিগেট করেছে, যেটা পুলিশের তত্ত্বাবধানে, যেটা পুলিশের কন্ট্রোলে, যেটা প্লেস অফ অফেন্স, সেখানে নিয়ে গিয়ে হঠাৎ করে নাকি ১ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। কোনওদিন শুনেছেন?”

অভিষেকের অভিযোগ, আইসি-র গাড়িতে টাকা নিয়ে গিয়ে অফিসে রাখা হয়েছে। এই বিষয়ে অভিষেক বলেন, “৩ তারিখ পার করে ৪ তারিখ ১২টার পর, রাত ১টা থেকে রাত ৩টের মধ্যে ডায়মন্ড হারবারের আইসি যে কালো এক্সইউভি ৩০০ ব্যবহার করেন, সেই এক্সইউভি ৩০০-এ করে টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আপনি যে গেছেন, তার ভিডিও আমার কাছে আছে।”

পুলিশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেক বলেন, “আমার কাছে ফুটেজ রয়েছে। আপনি মামলা করুন, আমি কোর্টে জমা দেব। আপনার গাড়ি সেখানে দাঁড় করিয়ে টাকার ব্যাগ নামানো হয়েছে রাত ১টা থেকে ৩টা অবধি। আপনি আমার বিরুদ্ধে মামলা করুন। আইসির গাড়ি থেকে টাকার ব্যাগ নামিয়ে সেখানে প্ল্যান্ট করা হয়েছে। পুরো প্ল্যানিংটা করেছে এসপি ডায়মন্ড হারবার। তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”  এই ঘটনায় হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *