আলিপুরদুয়ারের তোর্সায় জমি আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত। গ্রেফতার হওয়া ১১ জনের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিল তোর্সা বাগান জমি বাঁচাও সমিতি। বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর তোরসা চা বাগানে সংগঠনের নেতৃত্বে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও আন্দোলনের সমর্থকদের নিয়ে বৈঠক হয়। সেখান থেকেই বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গোতিবাড়ি এলাকার জমির অধিকার, ২ নভেম্বর ১১ জনের গ্রেফতারি এবং আগামী দিনের আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত হয়েছে, গোতিবাড়ির জমি নিয়ে ন্যায্য ও গ্রহণযোগ্য সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

– বিজ্ঞাপন –

আগামী ৬ নভেম্বর ধৃত ১১ জনের জামিন না হলে এবং পুলিশের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না করা হলে আরও বড় আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এ ক্ষেত্রে সরকার ও ল্যান্ড পোর্ট অথরিটিকে দায়ী করা হবে বলেও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। জামিন শুনানির দিন ধৃতদের পরিবারের সদস্যরাও আদালতে উপস্থিত থাকবেন।

কী নিয়ে জমি আন্দোলন?

আন্দোলনকারীদের দাবি, গোতিবাড়ি এলাকায় প্রস্তাবিত জয়গাঁও ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পের জন্য জমি ব্যবহারের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, মূলত আদিবাসী ও গোর্খা সম্প্রদায়ের পরিবারগুলি প্রায় ১৫০ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছে। তাঁদের কাছে এই জমি পূর্বপুরুষের সম্পত্তি এবং জীবিকার প্রধান ভিত্তি।

জমির অধিকার রক্ষা ও প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পের বিরোধিতা করে গত ১০৫ দিন ধরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান বিক্ষোভ চলছিল বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। তাঁদের অভিযোগ, ২ নভেম্বর পুলিশ আন্দোলনস্থল থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে ১১ জনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের মধ্যে তোর্সা আন্দোলনের ৯ জন এবং পশ্চিমবঙ্গ চা মজদুর সমিতির (PBCMS) ২ জন সদস্য রয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা আলিপুরদুয়ার জেলে বন্দি।

গ্রেফতারির পর আন্দোলনের নেতৃত্বের একাংশ জেলে থাকায় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে সমিতি। আগামী ৬ নভেম্বর জামিনের শুনানির দিকে তাকিয়ে রয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

বিজ্ঞাপন



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *