কলকাতা: দেশের অন্যতম শীর্ষ স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ডেসুন হাসপাতাল (Desun Hospital) সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। বিশেষ অনুষ্ঠানের নাম ‘আরোহন ২০২৬’ (Aarohan 2026)। এই অনুষ্ঠানে মূলত সম্মানিত করা হয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতী ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের। শনিবার আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তরুণ প্রজন্মকে আত্মবিশ্বাস, অধ্যাবসায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করা।

আরোহন শব্দের অর্থ ও উদ্দেশ্য

‘আরোহন’ শব্দের অর্থ ঊর্ধ্বগমন। অর্থাৎ উঁচুর দিকে ওঠা। এক্ষেত্রে বড় সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া। সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে ডেসুন হাসপাতাল এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সম্মানিত করে না, বরং তাঁদের অধ্যবসায়, আত্মনিবেদন এবং আজীবন শেখার মানসিকতার গুরুত্বও তুলে ধরে।

২০২৫ সালে প্রথমবার আয়োজিত হয় ‘আরোহন’। এটি পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বলা যেতে পারে। এই উদ্যোগে শিক্ষাক্ষেত্রে কৃতী এবং নিউরোডাইভার্স ( বিভিন্ন ধরনের চিন্তাভাবনায় যে মানুষেরা নিজ নিজ শিক্ষাক্ষেত্রে উৎকর্ষতার পরিচয় দিয়েছেন) ছাত্রছাত্রীদের একই মঞ্চে সম্মান জানানো হয়েছিল। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে আরও বৃহত্তর পরিসরে আয়োজন করা হয় এই কর্মসূচি। অংশ নেন বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের কৃতী ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এবং সমাজের বিশিষ্টজনেরা। উদ্যোগটির অন্যতম লক্ষ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রের মধ্যে আরও দৃঢ় সংযোগ গড়ে তোলা।

Aarohan News Update

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যামিটি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক শঙ্কু বোস এবং ডেসুন হাসপাতালের গ্রুপ ডিরেক্টর ডা. সৌমিত্র ভরদ্বাজ। তাঁদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সাফল্যকে সম্মান জানানো হয় এবং ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গড়ে তোলার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।

Desun Hospital Copy

আরোহন নিয়ে বিশিষ্টদের চিন্তা-ভাবনা

অধ্যাপক শঙ্কু বোস বলেন, “শুধু ভালো ফল করাই শিক্ষাগত উৎকর্ষতার একমাত্র মানদণ্ড নয়। কৌতূহল, অধ্যাবসায়, শৃঙ্খলা এবং সারাজীবন শেখার মানসিকতাই প্রকৃত সাফল্যের ভিত্তি। ‘আরোহন’-এর মতো উদ্যোগ তরুণদের উৎসাহিত করে বড় স্বপ্ন দেখতে, নতুন চিন্তাকে গ্রহণ করতে এবং সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে। এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে সাহায্য করে।”

Desun Hospital

ডেসুন হাসপাতালের সিইও এবং ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের রস স্কুল অব বিজনেসের প্রাক্তনী শাওলি দত্ত বলেন, “আরোহন আসলে অধ্যাবসায়, নিষ্ঠা এবং সাফল্যের উদযাপন। তরুণদের সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়া যেমন তাঁদের পরিশ্রমের মর্যাদা দেয়, তেমনই ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণাও জোগায়। ডেসুন হাসপাতাল বিশ্বাস করে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলা শুধুমাত্র স্বাস্থ্য পরিষেবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, মানসিক সুস্থতা এবং ব্যক্তিগত বিকাশ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।”

ডেসুন হাসপাতালের গ্রুপ ডিরেক্টর এবং মেও কলেজ, আজমেড়ের প্রাক্তনী ডা.সৌমিত্র ভরদ্বাজ বলেন, “জেসিআই এবং এনএবিএইচ স্বীকৃত স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডেসুন হাসপাতাল ‘আরোহন’-কে সমাজের প্রতি আমাদের বৃহত্তর দায়বদ্ধতারই একটি অংশ হিসেবে দেখে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সাফল্য, অধ্যাবসায় এবং সুস্থতাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের নিজেদের সম্ভাবনাকে আরও বড় পরিসরে কাজে লাগানোর অনুপ্রেরণাও দেওয়া হবে।”

Desun Aarohan

ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের অংশগ্রহণে ‘আরোহন ২০২৬’ হয়ে উঠেছিল সাফল্য, স্বপ্ন এবং সম্ভাবনার এক অনন্য উদযাপন। এই আয়োজন আবারও প্রমাণ করল, তরুণ প্রজন্মের মেধা ও পরিশ্রমকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাঁদের উৎসাহিত করা সমাজ গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *