চন্দ্রকোনা: ছবিতে কী দেখছেন? একটি আধার কার্ড হাতে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি ও মহিলা। তাঁরা স্বামী-স্ত্রী। স্বামীর বয়স ৪৫। ছবি দেখে আপনার ঠিকই মনে হতে পারে। তাঁর স্ত্রীর বয়স কত হতে পারে? ছবি দেখে মনে মনে একটা হয়তো আন্দাজ করতে পারবেন। কিন্তু, আপনি যতই আন্দাজ করুন না কেন, তা ভুল হওয়ার সম্ভাবনা একশো শতাংশ। কারণ, ওই মহিলার বয়স ১০৬ বছর। ঠাট্টা নয়। মহিলার হাতে ধরা আধার কার্ডের রেকর্ড একথা বলছে। আর তা নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার কৃষ্ণা পাল ও তাঁর স্বামী অষ্টম পাল। কৃষ্ণার আসল বয়স ৩৫। কিন্তু, আধার কার্ডে তাঁর বয়স ১০৬ বছর হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত কৃষ্ণা। আধার কার্ডে বয়সের এমন ত্রুটির কারণে প্রশাসনের দফতরে দফতরে ঘুরছেন কৃষ্ণা পাল ও অষ্টম পাল।

ওই দম্পতির বাড়ি চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের মনোহরপুর দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের ডিঙাল গ্রামে। আধার কার্ডে কৃষ্ণা দেবীর বয়স এখন ১০৬ বছর। আধার কার্ড অনুযায়ী তাঁর জন্ম তারিখ ১৯২০ সাল। সেই জন্য বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধার আবেদন করতে পারছেন না কৃষ্ণাদেবী।

স্বামী অষ্টম পাল পেশায় সাইকেল রিপেয়ারিং মিস্ত্রি। গত ১৪ বছর ধরে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে আধার সেন্টার ও ব্লক অফিস মহকুমা অফিস, এমনকি খড়গপুরের বিধায়কের আধার সেন্টারেও তিনি স্ত্রীকে নিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু তাতেও কোনও সমস্যার সমাধান হয়নি।

শনিবার সকালে মনোহরপুরে জন কল্যাণ শিবিরে চন্দ্রকোনা বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক সুকান্ত দোলইকে বিষয়টি বলেন ওই দম্পতি। বিধায়ক সমস্ত বিষয়টি শুনে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। ওই দম্পতি বিধায়কের আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়েছেন। কৃষ্ণাদেবী বলেন, এতদিন বিভিন্ন অফিসে ঘুরেও সমস্যার সমাধান হয়নি। ১৪ বছরের সমস্যা নতুন সরকারের আমলে হয়তো সমাধান হতে পারে বলে একটু হলেও আশার আলো দেখছেন তাঁরা। এখন দেখার, কবে সমস্যা থেকে মুক্তি পান এই দম্পতি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *