তাপপ্রবাহ, শৈত্যপ্রবাহ, বজ্রপাত, প্রবল বৃষ্টি, ভূমিকম্প, ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভারতে ক্রমশ প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। ২০২৪ সালে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভারতে প্রায় ৮ হাজার জন মানুষের প্রাণ কেড়েছে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো বা এনসিআরবি রিপোর্টে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
এনসিআরবি রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে ভারতে মোট ৭৯০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণ কেড়েছে বজ্রপাত। বজ্রপাতে ২৮২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা মোট মৃত্যুর ৩৫.৭%। পশ্চিমবঙ্গে ৮৬% মানুষের মৃত্যুর কারণ হল বজ্রপাত। তামিলনাড়ুতে ৮৯% মানুষের মৃত্যু হয়েছে বজ্রপাতে। গোয়া ও মণিপুরের বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বাজ পড়ে।
তাপপ্রবাহ ও সানস্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে ১৮৩২ জনের। যা মোট মৃত্যুর ২৩.২%। ২০২৪ সালে বন্যায় ৩৬১ জনের আর শৈত্যপ্রবাহে ৮৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারী বৃষ্টিতে ৩৯ জনের আর ভূমিধসে ৩৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এনসিআরবি রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভারতে সবচেয়ে ভুক্তভোগী মধ্যবয়সিরা। মৃতদের মধ্যে ৫৭% জনের বয়স ৩০-৬০ বছরের মধ্যে। ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে ১৮.৭% মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন প্রাকৃতিক দুর্যোগে। মৃতদের মধ্যে ৬৫৯ জনের বয়স ১৮ বছরের কম।
২০২৪ সালে শহরাঞ্চলের পাশাপাশি গ্রামেও প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে তাপপ্রবাহ ও সানস্ট্রোক। ভারতের ৫৩টি বড়ো বড়ো শহরে ৯১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে তাপপ্রবাহর কারণে। এনসিআরবি রিপোর্টে বলা হয়েছে, তাপপ্রবাহে পঞ্জাবের অমৃতসরে ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে তাপপ্রবাহের কারণে। দেশের বাকি শহরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। পটনায় ৪০ জনের আর ফরিদাবাদে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে তাপপ্রবাহের কারণে।
আবার হিমাচল প্রদেশের মতো পার্বত্য অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে বন্যাঘটিত কারণে। ভারী বৃষ্টি, হড়পা বান ও মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে বেশি মৃত্যু হয়েছে হিমাচল প্রদেশে। কেরলম, মেঘালয়, সিকিম, মিজোরাম ও ত্রিপুরায় ভূমিধসে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
