ইস্টবেঙ্গল এফসি: ১ (এডমুন্ড লালরিন্দিকা) মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট: ১ (জেসন কামিন্স)

খবর অনলাইন সংবাদদাতা: ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। বাণিজ্যিক অংশীদার চূড়ান্ত না হওয়ায় নতুন মরশুমের ভাগ্য ঝুলে রয়েছে। কিন্তু সেই সব উদ্বেগকে সরিয়ে রবিবার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন আবার প্রমাণ করল, কলকাতা ডার্বির আবেগই ভারতীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় শক্তি।

সম্প্রতি গেরুয়া রঙে রাঙানো শহরে যুবভারতী যেন ভাগ হয়ে গিয়েছিল দুই রঙে — লাল-হলুদ এবং সবুজ-মেরুনে। প্রায় ৬২ হাজার দর্শকের সামনে ইস্টবেঙ্গল এফসি এবং মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট উপহার দিল এক দুর্দান্ত লড়াই, যা শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্রয়ে শেষ হলেও আইএসএল শিরোপার লড়াইকে পৌঁছে দিল শেষ ম্যাচে।

মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল ম্যাচের একটি মুহূর্ত।

প্রথমার্ধেই এগিয়ে যেতে পারত ইস্টবেঙ্গল

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। মাঝমাঠে দ্রুত বল আদানপ্রদান, উইং দিয়ে আক্রমণ এবং পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ডার্বি। ১৫ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের আন্তন সোজবার্গের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। কিছুক্ষণ পর জিকসন সিংয়ের অসাধারণ পাস থেকে সুযোগ পেয়েছিলেন বিপিন সিং। তিনি মোহনবাগানের গোলরক্ষক বিশাল কাইথকে কাটিয়েও ফেলেছিলেন, কিন্তু শট নিতে সামান্য দেরি করায় আলবার্তো রদ্রিগেজের ডিফ্লেকশনে বল বাইরে চলে যায়।

৩৬ মিনিটেও গোলের সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করে ইস্টবেঙ্গল। মিগুয়েল ফেরেইরার পাস থেকে সোজবার্গ প্রায় একা হয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু দুরন্ত প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব দেখিয়ে বল কেড়ে নেন কাইথ।

অন্যদিকে মোহনবাগানও একাধিক সুযোগ তৈরি করে। সাহাল আবদুল সামাদের শট রুখে দেন আনোয়ার আলি ও মহম্মদ রাকিপ। দূরপাল্লার শটে চেষ্টা করেন লিস্টন কোলাসো এবং অনিরুদ্ধ থাপাও, কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের প্রভসুখন গিল ছিলেন দুর্ভেদ্য।

স্টেডিয়ামে ব্যানার নিয়ে হাজির ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকেরা।

শেষ মুহূর্তে এল দু’পক্ষের গোল

দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের গতি কমেনি। মনবীর সিং ও অভিষেক সিং তেখচাম গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন। বিপিন সিংয়ের একটি শট অনেক ওপর দিয়ে উড়ে যায়।

অবশেষে ৮৫ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ইস্টবেঙ্গলের মিগুয়েল ফেরেইরার নিখুঁত পাস থেকে গোল করেন এডমুন্ড লালরিন্দিকা। গোলের পর কর্নার ফ্ল্যাগে নিজের জার্সি টাঙিয়ে উদযাপন করেন তিনি। ১১ ম্যাচ পর আইএসএল কলকাতা ডার্বিতে জয়ের স্বপ্ন তখন প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছিল ইস্টবেঙ্গল।

কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হল মাত্র চার মিনিট। পুরো মরশুমে কর্নার থেকে গোল না পাওয়া মোহনবাগান ঠিক গুরুত্বপূর্ণ সময়েই ঘুরে দাঁড়ায়। ৮৯ মিনিটে দিমিত্রি পেত্রাতোসের কর্নার থেকে জেসন কামিন্স হেডে গোল করে সমতা ফেরান।

শেষ মুহূর্তে দুই দলই জয়ের সুযোগ পেয়েছিল। ইউসুফ এজেজ্জারির উদ্দেশে বিপিনের পাস সামান্য ভুল হয়। অন্য দিকে জেমি ম্যাকলারেনের শট দুর্দান্তভাবে বাঁচান প্রভসুখন গিল। শেষ দিকে মহম্মদ রশিদের চাপে ম্যাকলারেনের হেড বার-এর ওপর দিয়ে চলে গেলে ম্যাচ শেষ হয় ১-১ ফলেই।

টুটু বোসকে স্মরণ মোহনবাগান সমর্থকদের।

শেষ ম্যাচেই নির্ধারিত হবে এ বারের চ্যাম্পিয়ন

এই ড্রয়ের ফলে দুই দলেরই পয়েন্ট দাঁড়াল ২৩। তবে গোল পার্থক্যে (+৫) এগিয়ে থাকায় আপাতত শীর্ষে ইস্টবেঙ্গল। ফলে বৃহস্পতিবার শেষ ম্যাচেই নির্ধারিত হবে আইএসএল মরশুমের চ্যাম্পিয়ন। সে দিন ইস্টবেঙ্গল মুখোমুখি হবে ইন্টার কাশীর এবং মোহনবাগানের খেলা স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির বিরুদ্ধে।  

যে মরশুম শুরু হওয়াই অনিশ্চিত ছিল, সেই মরশুম এখন পৌঁছে গেছে রোমাঞ্চকর পরিণতির দোরগোড়ায়। আর তার কেন্দ্রে আবার কলকাতা ডার্বি।

ছবি: সঞ্জয় হাজরা



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *