ভারতের বিমান চলাচলের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচিত হল। বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উদ্বোধন করলেন নভি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (Navi Mumbai International Airport – NMIA) প্রথম ধাপ, যা তৈরি হয়েছে প্রায় ১৯,৬৫০ কোটি টাকার ব্যয়ে।

বছরের পর বছর পরিকল্পনা, স্থগিত সময়সীমা এবং প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে খুলে গেল ভারতের সবচেয়ে আধুনিক গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে আদানি এয়ারপোর্ট হোল্ডিংস লিমিটেড (AAHL)সিডকো (CIDCO)-র যৌথ উদ্যোগে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মুম্বই এখন পেল একটি নতুন বিমানবন্দর, যা এশিয়ার সবচেয়ে বড় কানেক্টিভিটি হাব হিসেবে গড়ে উঠবে। আজকের দিনটি ভারতের পরিকাঠামো উন্নয়নের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।”

তিনি আরও জানান, “মুম্বই শহরে আজ মেট্রোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সম্পূর্ণ ভূগর্ভস্থ ট্রানজিট ব্যবস্থা। এমন পরিকাঠামো শহরের গতিকে আরও দ্রুত করবে।”

প্রথম ধাপের বৈশিষ্ট্য

NMIA-র প্রথম ধাপে থাকছে —

  • একটি টার্মিনাল ও একটি ৩,৭০০ মিটার দীর্ঘ Code F রানওয়ে,
  • বছরে ২০ মিলিয়ন (২ কোটি) যাত্রী পরিবহনের ক্ষমতা,
  • AI-চালিত যাত্রী প্রবাহ ও রানওয়ে ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম,
  • Digi Yatra-সমর্থিত প্রবেশ ব্যবস্থা ও রিয়েল-টাইম ব্যাগেজ ট্র্যাকিং,
  • ৬৬টি চেক-ইন কাউন্টার, ২২টি সেলফ ব্যাগেজ ড্রপ, ২৯টি অ্যারোব্রিজ, ১০টি বাস বোর্ডিং গেট।

লন্ডন-ভিত্তিক জাহা হাদিদ আর্কিটেক্টস-এর নকশায় তৈরি এই বিমানবন্দরের টার্মিনালটি দেখতে যেন ভাসমান একটি পদ্মফুলের মতো, যা ভারতের জাতীয় ফুল পদ্ম থেকে অনুপ্রাণিত। অত্যাধুনিক এই নকশায় রয়েছে ডিজিটাল আর্ট ইনস্টলেশন এবং বৃহৎ LED স্ক্রিন, যা যাত্রীদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে আরও মনোরম ও আধুনিক করে তুলবে।

এটি ভারতের প্রথম বিমানবন্দর, যেখানে থাকবে ওয়াটার ট্যাক্সি কানেকশন এবং অটোমেটেড পিপল মুভার (APM) সংযোগ ব্যবস্থা।

 বিশ্বমানের পরিকাঠামো

নভি মুম্বই বিমানবন্দর তৈরি করা হয়েছে হিথ্রো, ইনচিয়ন ও সিঙ্গাপুর চাঙ্গি এয়ারপোর্টের আদলে, যেখানে যাত্রীদের জন্য থাকবে—

  • ১১০টি রিটেইল ও ফুড আউটলেট,
  • কিডস জোন ও ডিজিটাল টানেল-এর মাধ্যমে ভারতের ইতিহাস উপস্থাপনা,
  • ৫০০ যাত্রী ধারণক্ষমতা সম্পন্ন CIP লাউঞ্জ,
  • ৮০ রুমের ট্রানজিট হোটেল,
  • EV বাস পরিষেবা, সাসটেইনেবল এভিয়েশন ফুয়েল (SAF) ট্যাংক (১,২০০ কিলোলিটার)।

 সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা

NMIA হবে ভারতের সবচেয়ে সুবিধাজনকভাবে যুক্ত বিমানবন্দর।

  • আটল সেতু (Mumbai Trans Harbour Link)-র মাধ্যমে ওয়াডালা থেকে বিমানবন্দর পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র ৩৫ মিনিট।
  • ভাসি টোল ফ্রি অ্যাকসেস স্থানীয় যান চলাচল সহজ করবে।
  • ২০২৯ সালের মধ্যে চালু হবে মেট্রো সংযোগ, যা বেলাপুর থেকে CSMIA পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে।

বিমানবন্দরটি জওহরলাল নেহরু পোর্ট ট্রাস্ট (JNPT) থেকে ১৪ কিমি, থানে থেকে ৩২ কিমি এবং ভিওয়ান্ডি থেকে ৪০ কিমি দূরে অবস্থিত।

পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ

নভি মুম্বই বিমানবন্দরকে বলা হচ্ছে ভারতের সবচেয়ে “গ্রীন” এয়ারপোর্ট প্রকল্প।

  • চূড়ান্ত পর্যায়ে ৪৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন
  • রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং এবং লো-ফ্লো ফিক্সচার
  • ইলেকট্রিক যানবাহন ব্যবহার
  • প্যাসিভ কুলিং ডিজাইন—পদ্মফুল থেকে অনুপ্রাণিত নেটেড স্ট্রাকচার
  • রানওয়ে নির্মাণে রকফিল প্রযুক্তি, যা পরিবেশবান্ধব ও স্থিতিশীল

 সম্প্রসারণের পরিকল্পনা

  • ফেজ ১ (২০২৫): টার্মিনাল ১, ২০ মিলিয়ন যাত্রী ধারণ ক্ষমতা
  • ফেজ ২ (২০২৯): টার্মিনাল ২, ৩০ মিলিয়ন যাত্রী
  • ফেজ ৩ (২০৩২): টার্মিনাল ৩, ২০ মিলিয়ন যাত্রী
  • ফেজ ৪ (২০৩৬): টার্মিনাল ৪, ২০ মিলিয়ন যাত্রী

সম্পূর্ণ প্রকল্প শেষ হলে NMIA বছরে ৯ কোটি যাত্রী ও ৩.২ মিলিয়ন মেট্রিক টন কার্গো পরিচালনা করতে সক্ষম হবে — যা CSMIA-এর দ্বিগুণ ক্ষমতা।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *