এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ

সাভারে পর্যায়ক্রমে ছয়টি নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার ‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাটের প্রকৃত নাম সবুজ শেখ বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিজ পরিচয় গোপন করে ভবঘুরে নারীদের নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যাকাণ্ড চালানোর কথা আদালতে স্বীকার করেছেন তিনি। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি শেষে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আদালতে দেওয়া সম্রাটের সব বক্তব্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, সবুজ ওরফে সম্রাট নিজ পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন জায়গা থেকে ভবঘুরে নারীদের পরিত্যক্ত ভবনের নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন। পরে সন্দেহ বা তথাকথিত ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগ তুলে তাদের হত্যা করতেন।

সর্বশেষ ঘটনার ৩–৪ দিন আগে তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে তরুণীকে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে এনে রাখেন তিনি। ওই তরুণীর সঙ্গে আরেক ভবঘুরে যুবক সম্পর্ক করলে প্রথমে ওই যুবককে ভবনের দোতলায় হত্যা করেন সম্রাট। পরে নিচতলায় ওই তরুণীকেও হত্যা করে দুইটি লাশ পুড়িয়ে ফেলেন।

সোমবার আদালতে জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। জবানবন্দি শেষে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায়, সম্রাট নিজেকে কখনো ‘কিং সম্রাট’, কখনো ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ পরিচয়ে পরিচয় দিতেন। এমনকি ব্যাংক কলোনির একটি ভুয়া ঠিকানাও ব্যবহার করতেন। তবে তার দেওয়া কোনো পরিচয়েরই সত্যতা পাওয়া যায়নি।

ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) পুলিশের পরিদর্শক সাইদুল ইসলাম জানান, সম্রাটের দেওয়া বাবার নাম ও ঠিকানার কোনো মিল পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী বলেন, সম্রাট একজন বিকৃতরুচির ও সাইকোপ্যাথ প্রকৃতির মানুষ।

সাত মাসে ছয় খুন
পুলিশ জানায়, গত সাত মাসে সাভারে পর্যায়ক্রমে ছয়টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। এর মধ্যে ৪ জুলাই এক বৃদ্ধার, ২৯ আগস্ট, ১১ অক্টোবর ও ১৯ ডিসেম্বর তিনটি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ ১৮ জানুয়ারি পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে দুটি পোড়া লাশ উদ্ধার হয়। সিসিটিভি ফুটেজে একটি লাশ সরাতে দেখা যাওয়ার পর সম্রাটকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, আদালতে দেওয়া তথ্য, পরিচয় ও হত্যার কারণ যাচাই করে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *