রাশিয়া থেকে ইরান ও ইরাকের উদ্দেশ্যে কাগজ, পাল্প ও সংশ্লিষ্ট পণ্যবাহী একটি ট্রেন সফলভাবে যাত্রা সম্পন্ন করেছে। এতে ৬২টি চল্লিশ ফুট কনটেইনার ছিল, যা মস্কো থেকে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার উত্তরে যাত্রা শুরু করে কাজাখস্তান ও তুর্কমেনিস্তান হয়ে ইরানে প্রবেশ করে। ১২ দিনের ভ্রমণ শেষে ট্রেনটি এপ্রিন বন্দরে পৌঁছে

রোববার (৯ নভেম্বর) তেহরান টাইসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সফল অভিযানে রেলওয়ে, কাস্টমস, মালবাহী ফরওয়ার্ডার ও রুটের বিভিন্ন মালিকের ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন হয়। বিশেষজ্ঞরা একে আন্তর্জাতিক উত্তর–দক্ষিণ ট্রানজিট করিডোর (আইএনএসটিসি)-এর জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন।

ইরানের রেলওয়ে বাণিজ্য ও পরিচালনা বিভাগের উপ-প্রধান মোর্তেজা জাফারি জানান, জুন মাস থেকে এখন পর্যন্ত ৩০টি মালবাহী ট্রেন এপ্রিনে এসেছে। ইরান এখন সিআইএস অঞ্চলের রপ্তানি, আমদানি ও ট্রানজিট কার্যক্রমের আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রতিষ্ঠার পথে।

রাশিয়ান রেলওয়ে লজিস্টিকসের প্রধান নির্বাহী ওলেগ পোলেভ বলেন, লজিস্টিক উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক সহযোগিতার ওপরও নির্ভর করে। তিনি জানান, আগে মস্কো থেকে বন্দর আব্বাস পর্যন্ত যাত্রায় অনেক বেশি সময় ও খরচ লাগত, কিন্তু ইরান, তুর্কমেনিস্তান ও কাজাখস্তানের সমন্বিত সহযোগিতার ফলে এখন এই রুটে সময় কমে ১৫ দিনে দাঁড়িয়েছে।

পোলেভ এপ্রিন টার্মিনালকে মূল করিডোরের সংযোগস্থলে কৌশলগতভাবে অবস্থিত এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৩ নভেম্বর ইরান ও রাশিয়া একটি যৌথ পরিবহন টাস্কফোর্স গঠনে এবং ডিজিটাল একক উইন্ডো সিস্টেম চালু করতে সম্মত হয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহজতর করা, শুল্ক প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা।

ইরানের বন্দর ও সমুদ্র সংস্থার লজিস্টিক ও মাল্টিমোডাল পরিবহন প্রধান মেহদি আসাদি জানান, সাম্প্রতিক বৈঠকে দুই দেশ ক্যাস্পিয়ান সাগরের নৌচলাচল, আইএনএসটিসি করিডোরের পূর্ব শাখায় বাধা এবং বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে।

আসাদি আরও বলেন, একটি স্থায়ী যৌথ কর্মী গোষ্ঠী নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও সমস্যার সমাধান করবে। উভয় পক্ষই পরিবহন ক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *