স্টাফ রিপোর্টার: এশিয়া কাপের রেশ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। ‘ট্রফি’ বিতর্ক চলছেই। সেই নিয়ে চর্চার মধ্যেই ভারতীয় দল টেস্ট সিরিজে নেমে পড়ছে। ঘরের মাঠে প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বৃহস্পতিবার থেকে আহমেদাবাদে সিরিজ শুরু হয়ে যাচ্ছে। শক্তির বিচারে ভারতের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তার উপর আবার ঘরের মাঠে নামছে ভারত। স্বাভাবিকভাবেই শুভমান গিলের টিম অনেক এগিয়ে শুরু করছে, সেই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বরং এখন থেকেই আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে, টেস্ট শেষ হবে কত দিনে?
তবে যা-ই বলাবলি হোক না কেন, ভারতীয় অধিনায়কের কথা শুনলে একটা ব্যাপার স্পষ্ট-তাঁরা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ আবার নিউজিল্যান্ডের থেকে প্রেরণা খুঁজছে। গতবছর ঘরের মাঠে ভারতকে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে যায় নিউজিল্যান্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রস্টন চেজ বলছিলেন, “গতবার নিউজিল্যান্ড এসে কীরকম ক্রিকেট খেলেছিল, সেটা আমরা জানি। ওদের থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করব। আশা করছি ভালো ক্রিকেট উপহার দিতে পারব আমরা।”
এবারের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশপ সার্কেলে ভারতীয় টিমের এটাই প্রথম হোম সিরিজ। ইংল্যান্ডে গিয়ে সিরিড ড্র করে ফিরেছিলেন শুভমানরা। এই প্রথম রোহিত শর্মা আর বিরাট কোহলিকে ছাড়া ঘরের মাঠে টেস্টে নামবে টিম ইন্ডিয়া। ইংল্যান্ড সফরের আগেই ভারতের দুই তারকা টেস্ট থেকে অবসর ঘোষণা করেছিলেন। ক্যাপ্টেন হিসাবে শুভমানের কাছেও ঘরের মাঠে প্রথম টেস্ট সিরিজ হতে চলেছে। তাই হয়তো শুভমান নিজে আরও বেশি সতর্ক।
ঘরের মাঠে টেস্ট মানে একটা ব্যাপার সবার জানা। স্পিন সহায়ক উইকেট হবে। দ্বিতীয় দিন থেকে টার্ন পাবেন স্পিনাররা। ভারতীয় টিমের বোলিং কম্বিনেশন হবে এরকম- দুই পেসারের সঙ্গে তিন স্পিনার। কিন্তু আহমেদাবাদে সেটা হবে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। বরং পিচে বেশ ভালোরকম ঘাস রয়েছে। ম্যাচের দিন হয়তো এতটা সবুজ উইকেট থাকবে না, কিন্তু তাতেও যে পুরোপুরি স্পিন-সহায়ক পিচ হবে, বলা যাচ্ছে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ভারতীয় টিম এমন উইকেট চাইছে, যা থেকে ব্যাটার-বোলার, দু’পক্ষই সবাই সুবিধা পাবে।
ম্যাচের আগের দিন প্রেস কনফারেন্সে এসেছিলেন শুভমান। ভারতীয় অধিনায়কের কথায়, “আমাদের মধ্যে কী কথা হয়েছে, সেটা বলতে পারব না। তবে একটা কথা বলতে পারি, আমরা এমন পিচে খেলতে চাইছি, যেখানে ব্যাটার-বোলার-সবাই সুবিধা পাবে। দেখুন যে কোনও টিমই ভারত খেলতে আসুক না কেন তাদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল স্পিন আর রিভার্স সুইং সামলানো। বলতে পারেন এখানে সাফল্য পাওয়ার একটাই রাস্তা। আপনাকে স্পিন আর রিভার্স সুইং ভালোভাবে সামলাতে হবে। সেটা করতে পারলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। সেই কথা মাথায় রেখেই আমরা এরকম উইকেটে খেলতে চাইছি, যেখানে ব্যাটারদের জন্য যেমন রসদ থাকবে। তেমনই বোলররাও সুবিধে পাবে।”
ব্যাটিং কম্বিনেশন মোটমুটি ঠিক হয়ে গেলেও বোলিং নিয়ে একটু ধোঁয়াশা থাকছে। যেহেতু পিচে ঘাস রয়েছে, তাই একজন বাড়তি পেসার রাখার ভাবনাও রয়েছে। সেরকম হলে আবার একজন স্পিনারকে বাইরে রাখতে হবে। ওয়াশিংটন সুন্দর আর রবীন্দ্র জাদেজা-দু’জন স্পিনার অলরাউন্ডারের খেলা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। ভারত যদি তিন স্পিনারে নামে, তাহলে কুলদীপ যাদব আর অক্ষর প্যাটেলের মধ্যে একজন খেলবেন। কুলদীপকে ইংল্যান্ডে পাঁচ টেস্টের একটাতেও খেলানো হয়নি। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো প্রাক্তন অধিনায়ক মনে করেন, ইংল্যান্ডে কুলদীপকে না খেলিয়ে ভারত ভুল করছে। ইংল্যান্ড ব্যাটাররা কুলদীপকে সামলাতে পারতেন না। কুলদীপ এই টিমের এক্স ফ্যাক্টর। সৌরভ যে ভুল কিছু বলছেন না, সেটার প্রমাণ এশিয়া কাপ। দুরন্ত ফর্মে ছিলেন ভারতীয় স্পিনার। শুভমানের কথায়, “ভারতে যেরকম কন্ডিশন, তাতে ইংল্যান্ডের টেমপ্লেট এখানে কার্যকর হবে না। আমাদের দলে প্রচুর কোয়ালিটি ক্রিকেটার রয়েছে। কুলদীপের কথা বলব। সব ফরম্যাটেই উইকেট বের করে দেবে। ইংল্যান্ডে কুলদীপ একটা টেস্টেও খেলতে পারেনি। সেটা খুব দুর্ভাগ্যজনক।”
আজ টিভিতে
ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
প্রথম টেস্ট, আমেদাবাদ সকাল ৯.৩০, স্পোর্টস ১৮
