বিহারে ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটে তৈরি হল রেকর্ড। বৃহস্পতিবার ২৪৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ১২১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়। নির্বাচন কমিশনের (ECI) তথ্য অনুযায়ী, রাত ৮.৩০ পর্যন্ত ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৬৪.৬৬% — যা বিগত এক দশকের মধ্যে সর্বাধিক।

এই ভোটের হার ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় ৯.৩ শতাংশ এবং ২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় ৮.৮ শতাংশ বেশি। এমনকি, ২০১০ সালের পর থেকে বিহারের কোনও রাজ্য বা জাতীয় নির্বাচনে এত উচ্চ হারে ভোটে অংশগ্রহণ দেখা যায়নি।

ভোটার সংখ্যা কমলেও ভোট বেড়েছে

তবে শুধু এই সংখ্যাই নয়, এর পেছনের প্রেক্ষাপটও তাৎপর্যপূর্ণ। হিন্দুস্থান টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিহারে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার পর ভোটার তালিকা থেকে বিপুল পরিমাণ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী —

  • ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের পর পুরো রাজ্যে ৩০.৭ লক্ষ ভোটার বাদ গিয়েছে।
  • এই প্রথম দফায় ভোট হওয়া ১২১টি কেন্দ্রে বাদ গিয়েছে ১৫.৩ লক্ষ ভোটার, যা মোট ভোটারের প্রায় ৩.৯%

তবুও, বৃহস্পতিবারের ভোটে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ভোটার তালিকা বনাম ভোটার উপস্থিতি

নির্বাচন কমিশন জানাচ্ছে, এই ১২১টি আসনে মোট নিবন্ধিত ভোটার ৩৭.৫১ মিলিয়ন (৩ কোটি ৭৫ লক্ষ ১০ হাজার), যা এসআইআর শেষে ঘোষিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকার তুলনায় ০.৪% বেশি।

অর্থাৎ, বৃহস্পতিবারের ভোটে ভোট দিয়েছেন প্রায় ২ কোটি ৪৩ লক্ষ মানুষ,
যা ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের সময়ের ২ কোটি ১৫ লক্ষ ভোটারের তুলনায় অনেক বেশি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, “এসআইআর প্রক্রিয়ার ফলে কার্যকর ভোটার সংখ্যা কমেনি। বরং যাঁরা বহুদিন ভোট দেননি বা দ্বৈত তালিকাভুক্ত ছিলেন, তাঁদের নামই বাদ গিয়েছে।”

আরও পড়ুন: জেএনইউ ছাত্রসংসদ নির্বাচনে বাম ঝড়, চারটি পদই বাম ঐক্যের দখলে

 দশকভিত্তিক তুলনা: ২০১০–২০২৫

বিহারের ১২১টি বিধানসভা কেন্দ্রে গত তিনটি নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণ বলছে—

নির্বাচন ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধির হার ভোটদানের হার বৃদ্ধি
২০১০–২০১৫ ২১.৭% ৩০.৫%
২০১৫–২০২০ ৯.২% ৯.৫%
২০২০–২০২৫ ১.১% ১৭.১%

এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, ভোটার সংখ্যা কমলেও অংশগ্রহণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মাঝেও ইতিবাচক বার্তা

বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল—
বিরোধীরা অভিযোগ করেছিল, বিপুল পরিমাণ প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ গেছে।
কিন্তু এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করছে, “এসআইআর-এর মাধ্যমে আসল ভোটার বাদ পড়েননি, বরং মৃত, স্থানান্তরিত বা দ্বৈত নিবন্ধিত ভোটারদের নামই মুছে ফেলা হয়েছে।”

এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চললেও বিহারের ভোটারদের উৎসাহ নজর কাড়ছে সারা দেশেই। ভোটার সংখ্যা কমে গিয়েও ভোটের হার বেড়েছে — এটি এক ইতিবাচক গণতান্ত্রিক ইঙ্গিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি প্রমাণ করে, বিহারে রাজনৈতিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণের মাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। এ ছাড়া আগে যারা নানা অজুহাতে ভোট দিতে যেতেন না, এসআইআরের পর তাদের মনে সম্ভবত একটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে, ভোট না দিলে আগামী দিনে যদি নাম কাটা যায়। সে কারণে এ বার তারা ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার বাড়ার এটাও একটা অন্যতম কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।

📰 আমাদের পাশে থাকুন

নিরপেক্ষ ও সাহসী সাংবাদিকতা টিকিয়ে রাখতে খবর অনলাইন আপনার সহায়তা প্রয়োজন।
আপনার ছোট্ট অনুদান আমাদের সত্য প্রকাশের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।


💠 সহায়তা করুন / Support Us






Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *