শ্রয়ণ সেন 

মহারাষ্ট্রের কোঙ্কণ উপকূলের একটা অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য আছে। এখানে সমুদ্র দেখতে গেলে পাহাড়কেও দেখতে হবে। আবার পাহাড়ি পথে বেড়াতে বেরোলে কখন যে আরব সাগর আপনার সঙ্গী হয়ে যাবে, তা বুঝতেই পারবেন না। কোথাও পাহাড়ের গা ঘেঁষে রাস্তা, কোথাও সেই পাহাড় নেমে এসেছে বালুকাবেলার কাছে। সমুদ্র আর সবুজের এমন সহাবস্থানই কোঙ্কণকে আমার কাছে এত আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

– বিজ্ঞাপন –

গত বছর তারকারলি এসে বেঙ্গুরলা এবং আশপাশের সৈকতগুলো ঘুরেছিলাম। সেই সফরের অভিজ্ঞতা এতটাই ভালো লেগেছিল যে, এবারের ট্র্যাভেলিজমের মহারাষ্ট্র ভ্রমণসূচি তৈরির সময় ঠিক করি, অতিথিদেরও এই জায়গাগুলো দেখাব। নিজে যে পথ ভালোবেসেছি, সেই পথে অন্যদের নিয়ে যাওয়ার আনন্দই আলাদা।

গতকাল রাত সাড়ে দশটা নাগাদ তারকারলির এমটিডিসি রিসর্টে পৌঁছেছি আমরা। পানভেল থেকে মাণ্ডবী এক্সপ্রেসে কোঙ্কণ রেলের অপূর্ব যাত্রা, তার পর কুড়াল থেকে সড়কপথ। আজ, সকালটা কিছুটা আরামে কাটিয়ে ট্র্যাভেলিজমের সতেরো জন অতিথিকে নিয়ে বেরোলাম দক্ষিণের পথে। সব মিলিয়ে আঠারো জন। আজকের পরিকল্পনা—প্রথমে সাগরেশ্বর মন্দির ও সংলগ্ন সৈকত, তার পর বেঙ্গুরলা সৈকত, মধ্যাহ্নভোজনের বিরতি, আর তারকারলি ফেরার পথে কাভানে।

রিসর্ট ছাড়তেই শুরু হল পাহাড়ি রাস্তা। এটাই দক্ষিণ কোঙ্কণের মজা—সমুদ্রের কাছেই চলছি, অথচ চারপাশ দেখে মনে হবে পাহাড়ি এলাকায় বেড়াতে এসেছি। রাস্তার দু’পাশে গাছপালা, লাল মাটির ছোটো গ্রাম, কোথাও টালির ছাদের বাড়ি। সেপ্টেম্বরের শেষ ভাগে বর্ষার জল পেয়ে পাহাড় তখন ঘন সবুজ। মাঝে মাঝে পাহাড়ের ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছে সমুদ্র, পরমুহূর্তেই আবার হারিয়ে যাচ্ছে।

সাগরেশ্বর সৈকতে মাণ্ডবী নদীর উপর সেতু।

বিজ্ঞাপন

পথে দেখা কারলি নদী। কিছুক্ষণের জন্য আমাদের পথের সঙ্গী হল সে। এই অঞ্চলে নদী আর সমুদ্রের সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ। পশ্চিমঘাট থেকে নেমে আসা নদীগুলো সমুদ্রের কাছে এসে তৈরি করেছে খাঁড়ি, জোয়ার-ভাটার জলভূমি, ব্যাকওয়াটারের মতো বিস্তার। ব্যাকওয়াটার বললেই আমাদের কেরলমের কথা মনে পড়ে। কিন্তু দক্ষিণ মহারাষ্ট্রেও যে এমন সুন্দর জলভূমি রয়েছে, তা না এলে বোঝা কঠিন।

কারলি নদীর এই দৃশ্যের মধ্যে কোঙ্কণের ভূগোল যেন খুব সহজে ধরা পড়ে। পাহাড় থেকে জল নেমেছে, সেই জল নদী হয়ে এগিয়েছে সমুদ্রের দিকে; আর নদীর দু’পাশে গড়ে উঠেছে মানুষের বসতি ও যাতায়াতের পথ। নদীটিকে শুধু সুন্দর বললেই তাই পুরো কথাটা বলা হয় না। এখানকার জনজীবনের সঙ্গেও তার গভীর সম্পর্ক। তারকারলির নাম শুনে যে পর্যটক শুধু সমুদ্রের ছবি কল্পনা করেন, তাঁকে এই নদীপথ দেখানোও জরুরি বলে আমার মনে হয়।

কারলির উপর সেতু পেরিয়ে এগিয়ে চললাম। পথে পড়ল সিন্ধুদুর্গ বিমানবন্দর। তবে যতই বিমান যোগাযোগ বাড়ুক, এই অঞ্চলের পাহাড়ি সড়কপথের টান আমার কাছে আলাদা। গন্তব্যে পৌঁছোনোর আনন্দ যেমন আছে, পথের প্রতিটি বাঁক দেখার আনন্দও তেমনই। গত বছরের পরিচিত দৃশ্যগুলো আবার চোখে পড়ছিল, তবে এবার সঙ্গে আঠারো জনের দল—সেই স্মৃতির সঙ্গে নতুন অভিজ্ঞতাও যোগ হচ্ছে।

ঘণ্টাখানেকের পথ পেরিয়ে পৌঁছোলাম বেঙ্গুরলা অঞ্চলে। প্রথমেই সাগরেশ্বর মহাদেব মন্দির। মন্দিরটির চেহারা গতবারই আমাকে বিস্মিত করেছিল। উঁচু চূড়া বা জাঁকজমকপূর্ণ প্রবেশপথ নেই। বরং কোঙ্কণি ঘরানার ঢালু টালির ছাদ, অনেকটা সাধারণ বাড়ির মতো। বাইরে থেকে প্রথম দেখায় মন্দির বলে চিনতে অসুবিধাই হতে পারে। অথচ এই সরল চেহারার মধ্যেই একটা গভীর আকর্ষণ রয়েছে।

বেঙ্গুরলা সৈকত।

চারপাশে শান্ত পরিবেশ। বড়ো মন্দিরের আড়ম্বর নেই, নেই অকারণ কোলাহল। কোঙ্কণের বৃষ্টিবহুল আবহাওয়ায় ঢালু টালির ছাদ যে কতটা উপযোগী, এখানকার বাড়িঘর দেখলেই বোঝা যায়। মন্দিরটির স্থাপত্যেও তাই যেন স্থানীয় জীবনযাত্রার ছাপ। আমার কাছে কোনো মন্দির শুধু ধর্মীয় দর্শনস্থান নয়; তার নির্মাণশৈলী, জনপদের ইতিহাস এবং মানুষের বিশ্বাসও সমান আগ্রহের বিষয়। সাগরেশ্বর সেই দিক থেকেও বিশেষ।

বড়ো বড়ো ঐতিহাসিক স্থাপত্যের কথা আমরা অনেক পড়ি, কিন্তু ছোটো এলাকার ছোটো মন্দিরেও যে কতটা আঞ্চলিক পরিচয় লুকিয়ে থাকে, তা ভ্রমণ করতে করতে বুঝেছি। এখানে সমুদ্রের কাছাকাছি থাকার প্রভাব শুধু মানুষের জীবিকায় নয়, বাড়িঘর এবং মন্দিরের চেহারাতেও রয়েছে। সাগরেশ্বরের এই ঘরোয়া স্থাপত্য তাই বিশেষভাবে ভালো লাগে। মনে হয়, মন্দিরটিকে আশপাশের জনপদ থেকে আলাদা করে দেখার কোনো উপায় নেই।

মন্দির দেখে গেলাম একেবারে লাগোয়া সাগরেশ্বর সৈকতে। একটু আগেও ছিলাম ছায়াঘেরা মন্দিরের পরিবেশে, আর এখন সামনে খোলা আরব সাগর। বিস্তীর্ণ বালিরাশি, দূরে জলরেখা, পিছনে সবুজের উপস্থিতি। এখানে দাঁড়িয়ে মনে হয়, প্রকৃতি নিজের সৌন্দর্য প্রকাশ করতে কোনো অতিরিক্ত আয়োজনের সাহায্য নেয়নি। সৈকতের অনাড়ম্বর রূপটাই তার সবচেয়ে বড়ো পরিচয়।

সমুদ্রের ধারে এসে আমি প্রায়ই ভাবি, ভালো লাগার জন্য সবসময় খুব কিছু করার দরকার পড়ে না। একটু হাঁটা, ঢেউয়ের দিকে তাকিয়ে থাকা, হাওয়া অনুভব করা—এইটুকুতেই কত সময় কেটে যায়। সাগরেশ্বরেও তেমনই মনে হচ্ছিল। ছোট্ট মন্দিরের শান্তি আর তার পাশেই সমুদ্রের মুক্ত বিস্তার—একই জায়গায় দুই ধরনের সৌন্দর্য।

কাভানে সৈকতে ভ্রমণসাথিরা।

সেখান থেকে রওনা হলাম বেঙ্গুরলা সৈকতের দিকে। বেঙ্গুরলার ভূপ্রকৃতিটাই আশ্চর্য। দাভোলি, তুলাস ও মোচেমাড়ের পাহাড়ি অঞ্চল ঘিরে রেখেছে জনপদটিকে, আর পশ্চিমে আরব সাগর। পাহাড় আর সমুদ্রের মাঝখানে গড়ে ওঠা এই উপকূলীয় শহরের নিজস্ব একটা সৌন্দর্য আছে। গত বছর প্রথমবার এখানে এসে মুগ্ধ হয়েছিলাম; এবারও সেই অনুভূতি ফিরে এল।

বেঙ্গুরলা সৈকতের কাছে রয়েছে মাণ্ডবী নামে স্থানীয় নদী ও খাঁড়ি—গোয়ার বিখ্যাত মাণ্ডবী নদীর সঙ্গে একে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। ছোট্ট সেতু পেরিয়ে সৈকতের কাছে পৌঁছোনোর দৃশ্যটি আমার বিশেষ প্রিয়। একদিকে নদীর জল, অন্যদিকে সমুদ্র, পিছনে সবুজ পাহাড়। এক জায়গায় এতগুলো প্রাকৃতিক উপাদান পাশাপাশি দেখা সত্যিই মনোমুগ্ধকর।

সৈকতে দাঁড়িয়ে চারপাশ দেখছিলাম। বেঙ্গুরলার আকর্ষণ তার খোলামেলা বিস্তারে। এখানে শুধু সমুদ্র নয়, সমুদ্রের সঙ্গে পাহাড় আর নদীর মিলনটাই মূল সৌন্দর্য। গতবার দুপুরের তীব্র রোদে প্রায় ফাঁকা সৈকত দেখেছিলাম। এবার অতিথিদের সঙ্গে আবার ফিরে এসে মনে হল, এই জায়গাকে ভ্রমণসূচিতে রাখার সিদ্ধান্ত ঠিকই নিয়েছিলাম। নিজের ভালো লাগার সঙ্গে অন্যদের পরিচয় করিয়ে দিতে পারাটা একজন আয়োজকের কাছে কম প্রাপ্তি নয়।

বেঙ্গুরলায় দাঁড়িয়ে আবার বুঝলাম, সমুদ্রের সৌন্দর্য বিচার করার কোনো একক মাপকাঠি নেই। কারও কাছে সেরা সেই সৈকত, যেখানে ঢেউ বেশি; কারও ভালো লাগে নরম বালি, কারও পাহাড়ঘেরা নির্জনতা। আমার নিজের পছন্দের তালিকায় বেঙ্গুরলা এত উপরে থাকার কারণ এই বৈচিত্র্য। এখানে চোখ শুধু সামনের জলরাশিতে আটকে থাকে না; বারবার ঘুরে যায় পাহাড়ের দিকে, নদীর দিকে, সৈকতের চারপাশের ভূপ্রকৃতির দিকে।

কারলি নদী।

আমাদের বাংলায় সমুদ্রভ্রমণের কথা উঠলে দিঘা, পুরী, মন্দারমণি, একটু দূরের কথা ভাবলে গোয়ার নাম চলে আসে। অথচ মহারাষ্ট্রের দক্ষিণ কোঙ্কণেও একের পর এক অপূর্ব সৈকত রয়েছে। এদের অনেকগুলোর নাম বাংলার পর্যটকদের কাছে এখনও ততটা পরিচিত নয়। আমি মনে করি, এমন জায়গাগুলোকে দেখার সুযোগ করে দেওয়াও ভ্রমণ আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বেঙ্গুরলা সৈকত দেখার পর মধ্যাহ্নভোজনের বিরতি নিলাম। সকাল থেকে পাহাড়ি পথ পেরিয়ে মন্দির আর সমুদ্রসৈকত ঘোরা হয়েছে। এবার একটু বসা, খাওয়াদাওয়া এবং বিশ্রামের সময়। ট্র্যাভেলিজমের সফরে অকারণে ছুটোছুটি করানো আমার পছন্দ নয়। প্রতিটি জায়গাকে উপভোগ করতে হলে সময় দিতে হয়। বেড়াতে এসে শুধু একের পর এক জায়গার নামের পাশে টিক চিহ্ন দিয়ে যাওয়ার মধ্যে আমি বিশেষ আনন্দ খুঁজে পাই না।

এই বিরতিটা দরকারও ছিল। কারণ সারাদিন কোথাও থেমে ছবি তোলা, কোথাও একটু হাঁটা, আবার গাড়িতে উঠে পরের গন্তব্যে যাওয়ার মধ্যেও একটা ক্লান্তি জমে। ভ্রমণকে উপভোগ করতে হলে সেই ক্লান্তির কথাটাও মাথায় রাখতে হয়। অতিথিদের নিয়ে বেরোলে বিষয়টি আমার কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ।

খাওয়াদাওয়া সেরে এবার তারকারলি ফেরার পথ ধরলাম। কিন্তু দিনের ঘোরাঘুরি তখনও শেষ হয়নি। ফেরার পথে অপেক্ষা করছিল কাভানে সৈকত। গত বছর প্রথম এই অপেক্ষাকৃত অচেনা সৈকতটির সন্ধান পেয়েছিলাম। তখনই ঠিক করেছিলাম, সুযোগ হলে আবার আসব। এবারের সফরে তাই কাভানেকেও রেখেছিলাম।

কাভানে সৈকত।

কাভানের সৌন্দর্য বেঙ্গুরলার থেকে আলাদা। এখানে সমুদ্রের সঙ্গে খাঁড়ির জলভূমি এবং পাহাড়ের এমন সুন্দর মেলবন্ধন যে, কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলেই মন ভালো হয়ে যায়। কোথাও সবুজের রেখা নেমে এসেছে বালুকাবেলার কাছে, কোথাও পাথুরে অংশ, কোথাও জল আর স্থলের অদ্ভুত সহাবস্থান। এ জায়গার আকর্ষণ বড়ো কোনো পর্যটন পরিকাঠামোয় নয়; বরং তার নিজস্ব, নিরাভরণ প্রকৃতিতে।

সকালের সাগরেশ্বর, তারপর বেঙ্গুরলা, আর ফেরার পথে কাভানে—একদিনে তিনটি সৈকত দেখলাম। অথচ একটাকেও অন্যের মতো মনে হল না। সাগরেশ্বরে মন্দির আর সমুদ্রের সহাবস্থান, বেঙ্গুরলায় নদীর মোহনা ও বিস্তীর্ণ বালুকাবেলা, কাভানেতে পাহাড় আর খাঁড়ির আকর্ষণ। একই উপকূলের এত কাছাকাছি তিন রকম দৃশ্যপট!

কাভানেতে এসে আমার বিশেষ করে মনে হচ্ছিল, আমাদের প্রচলিত ভ্রমণ মানচিত্রের বাইরেও কত সুন্দর জায়গা অপেক্ষা করে রয়েছে। কোনো জায়গার নাম খুব বেশি প্রচারিত না হলেই তার সৌন্দর্য কমে যায় না। বরং অনেক সময় কম পরিচিত উপকূলেই সেই নিরিবিলি আবহ পাওয়া যায়, যা সাধারণ পর্যটকদের নজরে আসে না। অবশ্য নির্জন সৈকতকে সম্মান করাও জরুরি—প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে এসে তার পরিচ্ছন্নতা নষ্ট করা কোনোভাবেই উচিত নয়।

এই জন্যই কোঙ্কণ আমাকে বারবার টানে। একটা সৈকত দেখে মনে হয়, এর চেয়ে সুন্দর আর কী হতে পারে! একটু এগোলেই আরেকটি এসে যেন বলে, আমাকেও দেখো। তবে এমন জায়গা খুঁটিয়ে দেখতে চাইলে অন্তত দুটো দিন হাতে রাখা দরকার। আমাদের সেই অবকাশ নেই। পরদিনই তারকারলি ছেড়ে কুঙ্কেশ্বরের দিকে রওনা হতে হবে। তাই আজকের মতো কাভানেকে বিদায় জানিয়ে ফিরলাম রিসর্টের উদ্দেশে।

সাগরেশ্বর মন্দির।

ফেরার পথে মনে পড়ছিল গত বছরের বেঙ্গুরলা সফর। সেবার সকালেই বেরিয়ে দুপুরের মধ্যে ফেরার পরিকল্পনা ছিল। কারণ রিসর্টে অপেক্ষা করছিল পমফ্রেট মাছের মালভানি থালি আর নিশ্চিন্ত দুপুরের ঘুম। ভ্রমণের এই অলস আনন্দটুকু আমার খুব প্রিয়। স্থানীয় খাবার খাওয়া, নিজের মতো বিশ্রাম নেওয়া—এসবও তো বেড়ানোর অংশ।

এবার অবশ্য ব্যক্তিগত সফর নয়। সঙ্গে ট্র্যাভেলিজমের সতেরো জন অতিথি, তাঁদের নিয়ে পুরো কোঙ্কণ উপকূল ঘোরার দায়িত্ব। তবু দায়িত্বের পাশাপাশি আনন্দও আছে। গত বছর যে জায়গাগুলো নিজের চোখে দেখে ভালোবেসেছিলাম, এবার সেগুলোকেই অতিথিদের সামনে তুলে ধরতে পারলাম। এই অভিজ্ঞতা কেবল ভ্রমণ আয়োজনের নয়, নিজের ভালো লাগা ভাগ করে নেওয়ারও।

তারকারলির রিসর্টে ফিরে মনে হচ্ছিল, আজকের দিনের সৌন্দর্য একটিমাত্র ছবিতে ধরা সম্ভব নয়। তার জন্য চাই তিনটি ছবি—সাগরেশ্বরের শান্ত মন্দির আর সমুদ্র, বেঙ্গুরলার নদীমোহনা, কাভানের পাহাড়ঘেরা বালুকাবেলা। আর চাই সেই পাহাড়ি পথের স্মৃতি, যে পথ ধরে সমুদ্রের এত কাছে থেকেও কখনও তাকে দেখতে পাইনি।

আগামীকাল আমাদের গন্তব্য কুঙ্কেশ্বর। কোঙ্কণের আরেক অধ্যায় অপেক্ষা করছে। কিন্তু আজকের দিনটিকে মনে রাখব দক্ষিণ মহারাষ্ট্রের তিনটি অপূর্ব সৈকতের জন্য। এই উপকূলে প্রকৃতি যেন এক মুহূর্তের জন্যও তার সৌন্দর্য প্রদর্শন থামায় না। (চলবে)

ছবি: লেখক

আরও পড়ুন: কোঙ্কন ভ্রমণকথা ১/ সহ্যাদ্রির মেঘ পেরিয়ে গণপতির শহরে
কোঙ্কণ ভ্রমণকথা ২ / সমুদ্র পেরিয়ে পাথরের ইতিহাসে
কোঙ্কণ ভ্রমণকথা ৩/ এ তো ট্রেন নয়, এ যে খাবারের রানি!
কোঙ্কণ ভ্রমণকথা ৪/ তারকারলি – এক মিহি বালির সৈকতে



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *