খবর অনলাইন ডেস্ক: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জেতাতে প্রায় ৪৭০০ কোটি টাকা খরচ করেছিলেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। শুধু তা-ই নয়, টেক্সাসে রিপাবলিকানদের ক্ষমতা ধরে রাখতেও বিপুল অর্থ ব্যয় করেছিলেন তিনি। কারণ, টেক্সাসই মাস্কের ব্যক্তিগত বাসস্থান এবং তাঁর একাধিক বড়ো সংস্থার প্রধান কাজের কেন্দ্র। কিন্তু নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের পর রাজনৈতিক ও আর্থিক, দুই দিক থেকেই বড় ধাক্কার মুখে পড়েছেন টেসলার প্রধান নির্বাহী।
এর আগে ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জেতাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন মাস্ক। সেই নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রচারে ২৫ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ খরচ করেছিলেন তিনি। রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে প্রায় ৫০ কোটি ডলার ব্যয় করার পরেও এ বারের নির্বাচনে দলটির প্রত্যাশিত ফল না আসায় মাস্কের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
– বিজ্ঞাপন –
মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর নিজের অনুগামীদের রিপাবলিকানদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন মাস্ক। কিন্তু নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচনে গ্রেগ অ্যাবটকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোজোসা। এর ফলে তিন দশকেরও বেশি সময় পর টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট গভর্নর আসার পথ তৈরি হয়েছে।
মাস্কের হুঁশিয়ারি: ‘যাঁরা আমার সঙ্গে সংঘাতে যাবেন, তাঁদেরও খুঁজে বার করব’
নির্বাচনের আগে থেকেই জল্পনা ছিল, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে মাস্কের বিস্তৃত ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত শুরু করতে পারে। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের পর সেই আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মাস্ক। ‘ক্যাপিটল এজেন্ডা: ডেমোক্র্যাটদের হাতে কংগ্রেসের হাতুড়ি, এবার ইলন মাস্কের পালা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদনের জবাবে তিনি লেখেন, ‘তরবারি নিয়ে লড়াই করলে তরবারিতেই মৃত্যু হতে পারে। যাঁরা আমার সঙ্গে সংঘাতে জড়াবেন, তাঁদের বুঝতে হবে, নেপথ্যে আসল কলকাঠি কারা নাড়ছেন, তা আমি খুঁজে বের করব। শুধু তাঁদের সামনে থাকা প্রতিনিধিদের নয়, আসল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করব।’
এদিকে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বাজারেও চাপের মুখে পড়েছে মাস্কের সংস্থাগুলি। প্রাক্-বাজার লেনদেনে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৩.৮ শতাংশ এবং টেসলার শেয়ারের দাম ৩.৬ শতাংশ কমেছে। বৃহত্তর বাজারের তুলনায় পিছিয়ে ছিল দুই সংস্থার শেয়ারই।
বিজ্ঞাপন
ডেটা সেন্টার নিয়ে সিদ্ধান্তে প্রভাব পড়তে পারে স্পেসএক্সের ব্যবসায়
বিশ্লেষকদের মতে, ডেটা সেন্টার তৈরির অনুমোদন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে গেলে মাস্কের ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় বড় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে স্পেসএক্সের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সংস্থাটি শেয়ার বাজারে প্রথমবার শেয়ার ছাড়ার আগে বিনিয়োগকারীদের সামনে ২৮.৫ লক্ষ কোটি ডলারের সম্ভাবনাময় বাজারের কথা তুলে ধরেছিল। ডেটা সেন্টার সংক্রান্ত অনুমোদনে বিলম্ব হলে সেই ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বাস্তবায়নে বাধা তৈরি হতে পারে।
এর আগেও একাধিক বিতর্কে মাস্ককে নিশানা করেছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর জন্য স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবায় বিধিনিষেধ আরোপ, সরকারি দক্ষতা দফতরের নেতৃত্বে থাকাকালীন বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মী ছাঁটাই এবং তাঁর সংস্থাগুলিকে দেওয়া সরকারি বরাত ও ভর্তুকি—সব বিষয়েই তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তের হুঁশিয়ারি
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর মার্কিন কংগ্রেসের হাউস ওভারসাইট কমিটির পরবর্তী চেয়ারম্যান রবার্ট গার্সিয়া সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাঁর পরিবার এবং প্রশাসনকে। তাঁর সংক্ষিপ্ত বার্তা, ‘আইনজীবী নিয়োগ করুন।’
হাউস ওভারসাইট কমিটি মার্কিন কংগ্রেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নজরদারি কমিটি। সরকারি কাজকর্মের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এই কমিটির হাতে বিস্তর ক্ষমতা রয়েছে। প্রয়োজনে সরকারি আধিকারিকদের সাক্ষ্য দিতে তলব করা, সরকারি নথিপত্র চেয়ে পাঠানো এবং সমন জারি করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাজির হতে বাধ্য করতে পারে এই কমিটি।
ফলে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর মাস্কের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড, সরকারি চুক্তি, ভর্তুকি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হতে পারে। বিশেষ করে সরকারি দক্ষতা দফতরের দায়িত্বে থাকাকালীন মাস্কের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
সব মিলিয়ে, বিপুল অর্থ খরচ করে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে সাহায্য করলেও ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর মাস্কের সামনে নতুন রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
