
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে থাকছে নানা আয়োজন। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সাজিয়েছে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো। পাশাপাশি রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বসছে সাত ব্যান্ডের উন্মুক্ত সংগীতের আসর।
কবিতা পাঠ, প্রামাণ্য অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও কনসার্টের মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্যাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও চ্যানেল আইসহ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠান। সরাসরি সম্প্রচার, স্মৃতিচারণ, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দিনটির তাৎপর্য।
বিটিভির আয়োজন শুরু হবে সকাল থেকেই। সকাল ১০টায় ঢাকার আর্মি স্টেডিয়াম থেকে সশস্ত্র বাহিনীর উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করবে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমটি। বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রচারিত হবে ড. আনারুল হকের উপস্থাপনায় স্বরচিত কবিতা পাঠের অনুষ্ঠান। এতে আটজন কবির সঙ্গে কথোপকথনের পাশাপাশি থাকছে বিপ্লব ও সংহতি দিবস নিয়ে লেখা আটটি কবিতা।
রাত ১০টা ৪০ মিনিটে প্রচারিত হবে বিশেষ প্রামাণ্য অনুষ্ঠান ‘বিপ্লবের দিনগুলো’। এর পর রাত ১১টায় থাকছে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান। ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুনের উপস্থাপনায় এতে আলোচক হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। সন্ধ্যায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের উন্মুক্ত কনসার্টও সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি।
অন্যদিকে, চ্যানেল আইতেও দিনভর প্রচারিত হবে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। দিবসটির ইতিহাস, তাৎপর্য ও সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে সাজানো হয়েছে চ্যানেলটির সম্প্রচার আয়োজন।
দিনটির অন্যতম আকর্ষণ রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত উন্মুক্ত সংগীতানুষ্ঠান ‘কনসার্ট ফর সলিডারিটি’। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত সাত ঘণ্টার এই কনসার্টে অংশ নেবে দেশের সাতটি জনপ্রিয় ব্যান্ড। নগরবাউল জেমস, মাইলস, ওয়ারফেজ, ফিডব্যাক, আর্টসেল, শিরোনামহীন ও মেকানিক্স পর্যায়ক্রমে সংগীত পরিবেশন করবে।
আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৩টায় কনসার্টের প্রবেশপথ খুলে দেওয়া হবে। মূল পরিবেশনা শুরু হবে বিকেল ৪টায়। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় এবং বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশনের (বামবা) সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হবে এ আয়োজন। সবার জন্য উন্মুক্ত এই কনসার্টের মধ্য দিয়ে সংগীতের আবহে দিবসটি উদ্যাপনের পাশাপাশি দর্শক-শ্রোতাদের জন্য তৈরি হবে উৎসবমুখর পরিবেশ।
এদিকে সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশজুড়ে থাকছে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা সভা, দেশাত্মবোধক গানের আসর, প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ, শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় দৈনিকগুলোতে প্রকাশিত হবে বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র। টেলিভিশন ও রেডিওতে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। সিনেমা হল ও ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেখানো হবে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
