কালীপুজো মণ্ডপের কাঠামো ও কাপড়ে স্প্রে করতেই হবে অগ্নিনিরোধক রাসায়নিক। মণ্ডপের কাছে যাতে দমকলের গাড়ি সহজেই পৌঁছতে পারে, করতে হবে সেই ব‌্যবস্থা।
বুধবার লালবাজার ও দমকলের কর্তারা উত্তর কলকাতার নব যুবক সংঘ, মধ‌্য কলকাতার মুচিপাড়া ও জানবাজার, দক্ষিণ কলকাতার ক‌্যাওড়াতলায় শ্মশানকালী, সরশুনায় চামুণ্ডা কালীপুজো, এই পাঁচটি মণ্ডপ পরিদর্শন করে এমনই নির্দেশ দিলেন পুজো কমিটিগুলিকে। এ ছাড়াও ময়দানের বাজি বাজার ও লেক কালীবাড়িও এদিন পরিদর্শন করেন ডিজি (দমকল) অনুজ শর্মা ও কলকাতা পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (সদর) সুদীপ সরকার। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সংশ্লিষ্ট ডিভিশনের ডিসি ও থানার ওসিরাও।

কালীপুজোয় কোনও বাজির ফুলকি মণ্ডপে এসে পড়লেই ঘটে যেতে পারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। এতে ঘটে যেতে পারে বড় বিপর্যয়। তাই পুজোয় চোরবাগানের বিপর্যয়ের পর পুলিশ ও দমকল কোনও ঝুঁকি নেয়নি। পুজো উদ্যোক্তাদের পুলিশ ও দমকলের কর্তাদের নির্দেশ, অগ্নিসুরক্ষার জন‌্য মণ্ডপের কাপড় ও কাঠামোয় স্প্রে করতে হবে অগ্নিনিরোধক রাসায়নিক। প্রত্যেক মণ্ডপে রাখতে হবে পর্যাপ্ত সংখ‌্যক অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ও বালি। মণ্ডপে প্রস্থানের পথ অনেক বেশি বড় করতে হবে। কোনও বাড়ির দেওয়াল লাগোয়া এসির আউটলেট থাকলে তার কাছে মণ্ডপ তৈরি করা যাবে না। কালীপুজোর আগেই পুজো কমিটির স্বেচ্ছাসেবকদের দমকল অগ্নিনির্বাপণের প্রশিক্ষণ দেবে। পরিদর্শনের পর দমকলের ডিজি অনুজ শর্মা জানান, তাঁদের মূল লক্ষ্য হল ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা। যাতে পুজো উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে দর্শনার্থীরা কোনওরকম সমস্যা বা আতঙ্ক ছাড়াই নিরাপদে উৎসবে শামিল হতে পারেন, সে বিষয়েই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

তিনি জানান, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য মেনে যে সমস্ত পুজো হয়ে আসছে, সেগুলির ক্ষেত্রে ভিড়ের স্বাভাবিক চলাচলের কথা মাথায় রেখেই সার্কুলেশন প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশ ও দমকল বিভাগ যৌথভাবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। প্রত্যেক মণ্ডপে অগ্নি নির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মণ্ডপের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ যাতে কোনওভাবেই বাধাপ্রাপ্ত না হয়, সে বিষয়েও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। প্রবেশ ও প্রস্থান পথের আশপাশে থাকা স্টল এবং দোকানগুলি সুশৃঙ্খলভাবে বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দর্শনার্থীদের যাতায়াত মসৃণ ও ভিড় সামলানোও সহজ হবে। অনুজ শর্মা জানান, কোনও সময় মণ্ডপে দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে কলকাতা পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে মূল প্রবেশদ্বারেই ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা হবে, যাতে মণ্ডপের ভিতরে অতিরিক্ত ভিড় জমে না যায়। সামগ্রিকভাবে পুজোর দিনগুলিতে অগ্নি নিরাপত্তা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ ও দমকল বিভাগ সমন্বয় রেখে কাজ করছে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *