ভারতের গণতন্ত্র ‘ভিড়তন্ত্র’কে হারিয়ে দিয়েছে। দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভকে ফ্লপ শো বলে দেগে দিল বিজেপি। সিজেপির এই বিক্ষোভকে স্রেফ অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা বলে দাবি করে কেন্দ্রের শাসকদল বলছে, “গণতন্ত্রকে ভিড়তন্ত্র দিয়ে পরাস্ত করার অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।”
আসলে সরকারের সতর্কতা, ধরপাকড়, নেতাদের গ্রেপ্তারির জেরে শেষমেশ জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচি সেভাবে দানা বাঁধতে পারেনি। একদিন আগে থেকে দিল্লিগামী সব ট্রেন বন্ধ, মেট্রো বন্ধ, ইন্টারনেনেট বন্ধ, জায়গায় জায়গায় ব্যারিকেড, এবং সেই সঙ্গে বিপুল সংখ্যক আধাসেনা মোতায়েন, এসব উপেক্ষা করেও যেসব বিক্ষোভকারী শনিবার দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছিলেন, তাঁদেরও সকাল থেকে গণহারে আটক করা শুরু করে দিল্লি পুলিশ। সকালেই আটক করা হয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে। দিল্লিতে পা রাখার সুযোগও দেওয়া হয়নি ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাসকে। বিমান থেকেই তাঁদের আটিক করে অজ্ঞাতবাসে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। শুধু ককরোচ নেতৃত্বকে নয়, আটক করা হয় বাম নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠনের কর্মীদেরও। এমএ বেবি, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, বৃন্দা কারাটদের মতো বাম নেতানেত্রীদেরও পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। প্রথম ও দ্বিতীয় সারির বেশিরভাগ নেতা গ্রেপ্তার হয়ে যাওয়ায় সেভাবে বিক্ষোভ জমাট বাঁধেনি।
আরও পড়ুন:
সম্ভবত তাতে খানিকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবির বলছে, আজ যারা অরাজকতা সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন তারা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। বিজেপির সর্বভারতীয় মুখপাত্র তথা বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র বলছেন, “বিশৃঙ্খলা ও হিংসা সৃষ্টির মাধ্যমে যারা রাজধানীর পরিবেশ নষ্ট করতে চেয়েছিলেন তাদের সেই ‘ফ্লপ শো’ সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। আজ দেশের গণতন্ত্র বা ‘লোকতন্ত্র’ এই তথাকথিত ‘ভিড়তন্ত্র’-এর বিরুদ্ধে বড় জয় পেয়েছে।
বিজেপির দাবি, ‘আরশোলা’দের নেপথ্যে রয়েছে বিদেশি শক্তি।’ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন বলেন, “আজ দেশে অত্যন্ত বিপজ্জনক ও গুরুতর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। এমন এক দেশকে অশান্ত করার চেষ্টা চলছে যেখানে ১৪০ কোটি মানুষ শান্তি ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে।” তিনি আরও বলেন, “এর নেপথ্যে রয়েছে দু’টি নৈরাজ্যবাদী গোষ্ঠী। একটি কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইন্ডি জোট। অন্যটি আপের সহযোগী ককরোচ।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
