২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা ভাঙার দাবি নিয়ে এবার CID তদন্তের ঘোষণা। নবান্নে কী বললেন শুভেন্দু অধিকারী, জানুন বিস্তারিত।

প্রায় পাঁচ বছর পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাঙা পা টেনে নিয়ে আসেন নন্দীগ্রামের ভোট প্রচারে গিয়ে। কিন্তু সেখানেই বিষয়টি নিয়ে ইতি টানেননি শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাঙাকে ইস্যু করেছিলেন। কিন্তু তার ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই সেই ঘটনার সিবিআই তদন্ত হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেছেন, তাঁর কাছে গোটা ঘটনার রিপোর্টও রয়েছে।

নবান্নে শুভেন্দুর দাবি

আজ নবান্নে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘গতকাল নন্দীগ্রামে আমি একটা বক্তব্যে বলেছিলাম, ২০২১ সালে পুরো নন্দীগ্রামকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) অপমান করেছিলেন। ওঁর পা নাকি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।’এখানেই শেষ করেননি তিনি। সঙ্গে সঙ্গে একটি রিপোর্টও দেখান। শুভেন্দু বাঙুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ডিপার্টমেন্ট অব রেডিও ডায়াগোনাস্টিকের ২০২১ সালের ১১ মার্চের রিপোর্ট দেখিয়ে বলেন, ‘নো এভিডেন্স অব ফ্র্যাকচার। আমি এটা নিয়ে বাড়তি কিছুই বলছি না। সিআইডি তদন্ত করছে। নির্বাচনী বিধি উঠে গেলে এই মিথ্যা প্রচারের জন্য আমরা নতুন করে তদন্ত করবো। এটা আমি ৯ তারিখের পরে জানাবো।’

নন্দীগ্রামে ভোট প্রচারে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য

২০২১ সালের নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের পায়ের আঘাত নিয়ে শুক্রবার মুখ খোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তি আক্রমণ করি না। আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে পিজি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। এক্স রে প্লেট তো রোগী পেয়ে যায়। ডাক্তারের কাছে থাকে না। কিন্তু এক্স রে রিপোর্ট থাকে। আমার কাছে ওই কাগজটা আছে। তখন উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) মুখ্যমন্ত্রী। ওনার ডাক্তাররা লিখে দিয়েছিলেন নো ফ্র্যাকচার। আমার কাছে আছে।’ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, ‘আপনাদের বদনাম করে দিয়েছিল না? বদনাম করে দিয়েছিল। সামনে ওনার গাড়ির দরজা লেগেছিল একটা লোহার বিমে। দরজাটা ফিরে এসে পায়ে একটু চোট লেগেছিল। আর পা ভেঙেছে বলে ব্য়ান্ডেজ লাগিয়ে ঘুরেছিলেন। যেদিন দরকার হবে, চ্য়ালেঞ্জ করলে দেখিয়ে দেব। আমি এখন পুলিশমন্ত্রীও বটে। সেদিন দেখিয়ে দেব।’

কী হয়েছিল নন্দীগ্রামে ২০২১ সালে?

২০২১ সালে ১০ মার্চ নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের মনোনয়ন পেশের দিন পায়ে আঘাত পেয়েছিলেন মমতা। সেই রাতেই নন্দীগ্রাম থেকে তাঁকে সরাসরি নিয়ে আসা হয় কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে। সেখানে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। পায়ে রাতারাতি প্ল্যাস্টার করা হয়। তারপর বিধানসভা ভোটের প্রচার নিয়ে ভাঙা পা নিয়ে করেন বলেও একাধিকবার দাবি করেছেন। প্ল্যাস্টার বাঁধা পায়ে হুইল চেয়ারে বসেই ভোট প্রচার করেন। মমতা সেই সময় গোটা ঘটনার জন্য শুভেন্দু অধিকারীকে দায়ি করেছিলেন। যদিও সেই সময় ভোটে মমতা শুভেন্দুর কাছে হেরে যান। শুভেন্দু বিরোধী দলনেতা হয়ে বিধানসভায় যান।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *